Currently set to Index
Currently set to Follow
bangla translation pdf book

দ্যা পাওয়ার অফ ইয়র সাব-কনশাস মাইন্ড Pdf download

বইয়ের নামঃ দ্যা পাওয়ার অফ ইয়র সাব-কনশাস মাইন্ড
লেখক: Joseph Murphy,Ian McMahan
ফাইল ফরম্যাট: পিডিএফ(Pdf)

বই রিভিউঃ

আমাদের পুরটা জীবনের গতিপ্রকৃতি কেমন হবে সেটার ৯৫ ভাগ নির্ভর করে জন্ম পরবর্তী ৭ বছরে আমাদের মস্তিষ্ক কিভাবে প্রগ্রামড হয় সেটার উপর । ঠিক এই কারনে গরিব ঘরে জন্ম নেয়া একটা ছেলের চিন্তা ভাবনা গুলো সহজেই বড় স্বপ্ন দেখতে পারে না । অন্যদিকে, ধনী পরিবারে জন্ম নেয়া ছেলে গরীব হওয়ার কথা ভাবতে পারে না । প্রতিটা শিশু জন্মের পরবর্তী প্রায় ৬-৭ বছর পর্যন্ত সচেতন ভাবে চিন্তা করতে পারে না । যুবক বয়সে যেমন প্রখর চিন্তা শক্তি থাকে, সচেতন ভাবে ভাবতে পারে । কিন্তু যখন শিশুটির বয়স ৬-৭ এর মধ্যে থাকে তখন শিশুটি যুবকদের মত ভাবতে পারেনা এই সময়ে তারা অবচেতনে শিখতে থাকে । এই সময়েই শিশুদের মস্তিষ্কে ভাষা এবং সমাজের বিভিন্ন নিয়ম গুলি প্রাগ্রামড হতে থাকে । একজন যুবকের একটা নতুন ভাষা শিখতে অনেক সময় লেগে যায় সেখানে একটা শিশু দ্রুতই একসাথে তিনটি ভাষা শিখে ফেলতে পারে । দ্রুতই কাদা মাটির সংগে খেলতে খেলতে হাটা শিখে যায় । এই সময়ে একটা শিশুর মস্তিষ্কে প্রতিটা শুক্ষ বিষয় প্রগ্রামড হয়ে যায় । এই প্রগ্রাম গুলোই তার জীবনের ৯৫% নিয়ন্ত্রন করে থাকে । জন্মের পরবর্তী সময়ে যেসকল প্রগ্রাম আমাদের দরকার সেগুলো প্রকৃতি আমাদের মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দিতে থাকে । আপনার পাশের আপনার বাবা মা আপনার সমাজ আপনার পরিবেশ এর হাজারো নিয়ম আপনার মাথায় প্রগ্রামড হয়ে যায় । পরবর্তী সময়ে এই প্রগামগুলো দ্বারাই আপনি নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকেন । প্রতিটা সন্তান তার পরিবার থেকে বিশ্বাস, নিয়ম কানুন খুব ছোট বেলায় শিখে ফেলে । সেগুলো পরবর্তীতে তার জীবনেরও অংশ হয়ে যায় । একটা উদাহরন দেয়া যাক, কিছু মানুষ একটা নির্দিষ্ট বয়সে এসে অনেক আত্মউন্নয়মূলক বই পড়ে । তারপর বইয়ে পড়া সূত্র গুলো জীবনে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে । কিন্তু বাস্তবে পর্যবেক্ষন করলে দেখা যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বইয়ে পড়া নিয়ম গুলো সর্বচ্চ দুই থেকে তিন দিন ভালভাবে কাজে লাগাতে পারে । তারপর আবার পূর্বের অবস্তায় ফিরে যায়, অর্থাৎ নিয়ম গুলো মেনে চলতে ব্যার্থ হয়ে যায় । এই সূত্র গুলো তারা বাস্তবে কাজে লাগাতে পারে না । এর কারন হল বই পড়ে শুধু তারা কিছু জ্ঞান অর্জন করে । এটা তাদের সচেতন মনের মাধ্যমে হয় । এই সচেতন মন আমাদের জীবনকে ৫% নিয়ন্ত্রন করে । আমরা যদি সচেতন মনের মাধ্যমে ৯৫% নিয়ন্ত্রিত হতাম তাহলে হয়ত আমাদের বইয়ে পড়া জ্ঞান ৯৫ সময় কাজে লাগাতে পারতাম । যেহেতু আমাদের অবচেতন মন দ্বারা আমরা ৯৫% নিয়ন্ত্রিত হই সেহেতু আমাদের সচেতন মনে শেখা সূত্র গুলো বাস্তব জীবনে ভালভবে কাজে লাগাতে পারি না । তবে যদি আমাদের সচেতন মনে শেখা নিয়ম গুলো অবচেনত মনে প্রগ্রামড করে নেয়া যায় তাহলে সেগুলো আমরা বেশ ভাল ভাবে কাযে লাগাতে পারি । যেসকল জ্ঞান আমরা সচেতন ভাবে বইয়ে পড়ি সেগুলো যদি অবচেতন মনে গেথে নিতে পারি তবে আমরা পুর অসাধ্য সাধন করে ফেলতে পারি । আপনি যদি গ্রামের মানুষের দিকে তাকান তাহলে দেখবেন করোনা ভাইরাস কে যতটা না ভয় পায় তার থেকে অনেক বেশি ভয় পায় বাগ ভল্লুক । যদিও বাগ বা ভাল্লুক আমাদের এখন আর তাদের মারতে আসবে না । অপর দিকে করোনা আমাদের সমাজকে পুর স্তবদ্ধ করে ফেলেছে । এর কারন হল ভাইরাস সম্পর্কে কয়েকদিন হল আমরা জানছি। আমাদের অবচেতন মনে ভাইরাস নিয়ে আগে থেকে কোন ভয়ের প্রগ্রাম তৈরি হয় নি । কিন্তু বাগ ভল্লুক নিয়ে আমাদের মনের ভেতর অনেক ভয়ের প্রগ্রাম তৈরি হয়ে আছে । এবার ভেবে দেখুন তো আমরা যদি আমাদের অবচেতন মনকে নতুন করে প্রগ্রামড করতে পারি তাহলে কেমন হয় ? আমরা সচেতন মনে যে ভাল জ্ঞান গুলো অর্জন করি সেগুলো যদি অবচেতন মনের মধ্যেও প্রগ্রামড করে নিতে পারি তাহলে আমরা একপ্রকার অসাধ্যই সাধন করে ফেলার ক্ষমতা অর্জন করতে পারব । আমরা আত্মউন্নয়মূলক বইয়ে যে সূত্র গুলো শিখি সেগুলো অবচেতন মনে গেথে নিতে পারলে আমাদের আত্মউন্নয়ম মূলক বই পড়াটা সার্থক হবে । আমরা ইচ্ছামত আমাদের জীবনে টার্নিং পয়েন্ট নিয়ে আসতে পারব । অবচেতন মত রিপ্রগ্রামড করার মাধ্যমে আমরা আমাদের ভেতর থাকা বদ অভ্যাস গুলো দূর করতে পারি সফলতার জন্য পরিশ্রমী হতে পারি । এখন আমরা দেখব ঠিক কিভাবে আমরা আমাদের অবচেতন মনকে রিপ্রাগ্রামড করতে পারি …………।।

 

প্রথম সূত্রঃ মেডিটেশন
অবচেতন মনকে রিপ্রগাড করার আগে আমাদের এই মন এর কিছু বৈশিষ্ট জেনে নেয়া দরকার। টেলিভিশন দেখার সময় যখন দুংখের সিন আসে সেসময় কখনো কখনো আমরা মনের অজান্তেই কেদে ফেলি । যদিও আমরা সচেতন ভাবে জানি এটা বাস্তব ঘটনা নয় তবুও কেদে ফেলি । কারন আমাদের অবচেতন মন ভার্চুয়াল বনাম রিয়্যালিটি এর মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না । আমাদের সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম এই ভার্চুয়াল ঘটনাটাকে রিয়েল বলে মনে করে । অন্য একটা ঘটনার কথা চিন্তা করা যাক । আমরা যখন বার বার নেগেটিভ চিন্তা করি আমাদের জীবনও ডিপ্রেশনে ভরে যায় আর যখন পজেটিভ চিন্তা করি তখন আমাদের জীবন সুখী হয়ে ওঠে । গৌতম বুদ্ধ বলেছিলেন আমরা আমদের জীবন সম্পর্কে যেমন ধারন রাখি আমরা ঠিক তেমন হয়ে উঠি । আমাদের অবচেতন মন একটা রেকর্ড প্লেয়ারের মত । এটাতে একবার যা রেকর্ড হয় সেটা সে বার বার প্লে করতে থাকে । আমাদের অবচেতন মনে যদি আমরা পজেটিভ চিন্তা বপন করি তাহলে সারাক্ষন আমাদের মনের মধ্যে পজেটিভ সবকিছু ধরা দেবে । আর যদি আমাদের অবচেতন মনের মধ্যে নেগেটিভ চিন্তা বপন করি তাহলে আমাদের জীবন নেগেটিভিতে ছেয়ে যাবে । আমাদের অবচেতন মন এর ডেটা প্রসেস ক্ষমতা সুবিশাল । যখন আমাদের অবচেতন মনের মধ্যে পজেটিভ চিন্তা বপন করি তখন আমাদের অবচেতন মন তার সমস্ত ফোকাস শুধু পজেটিভ চিন্তার দিকে দেয় । অবচেতন মন তখন খোজা শুরু করে আমাদের জীবনের পজেটিভ দিকগুলো পজেটিভ সম্ভাবনা গুলো । যেহেতু আমাদের অবচেতন মনের ডেটা এনালাইসিস ক্ষমতা সুবিশাল । যখন অবচেতন মন তার সমস্ত ফোকাস পজেটিভ সম্ভাবনা খুজতে শুরু করে তখন সে এটা বের করে ফেলে আমাদের সুপ্ত প্রতিভা গুলো । তখন আমরা হঠাত করে আবিষ্কার করতে থাকি আমাদের ক্রিয়েটিভ ট্যালেন্ট গুলো । আর যদি নিজের অবচেতন মনের ভেতর নেগেটিভ চিন্তা বপন করি তখন আমাদের অবচতন মন আমাদের ভেতরের নেগেটিভ বিষয়গুলোর উপর তার সমস্ত ফোকাস দিতে শুরু করে । যখন অবচেতন মন নেগেটিভ দিকে ফোকাস করতে থাকে তখন সে সমস্ত খারাপ দিক গুলো খুজে বের করে । তখন একজন মানুষ নিজের ভেতর তার নেগেটিভ দিকগুলো আবিষ্কার করতে থাকে । তখন সে নিজেকে দোষারোপ করে আর ভাবে তার জন্মই মনে হয় এসব নেগেটিভ বিষয় নিয়েই । যদি কোন একজন ব্যাক্তি সুখী হতে চায় । তাহলে তাকে প্রতিমুহুর্তে বলতে হবে আমি সুখী ব্যাক্তি আমি সুখী ব্যাক্তি । এই কথা গুলো তাকে বার বার নিজের ভেতর রিপিট করতে হবে । এটা করার ফলে তার অবচেতন মন তাকে সুখী করে তুলবে । এটা অনেকটা এমন হয় যে, যখন বার বার কেউ বলতে থাকে সে সুখী । তখন সেটা অবচেতন মনে প্রগামড হয়ে যায় । তখন অবচেতন মন তার ভেতরের ভাল দিক গুলো খুজে বের করে আর বার বার তাকে তার সচেতন মনে সুখী হওয়ার দিক গুলো স্বরন করিয়ে দেয় সে আস্তে আস্তে পজেটিভ মানুষ হতে থাকে এবং সুখী মানুষে পরিতন হয় । যেহেতু অবচেতন মন আমাদের জীবনের ৯৫% নিয়ন্ত্রন করে সেহেতু আমারা সংক্রিয় ভাবে পজেটিভ মনের মানুষ হতে শুরু করি । এর ঠিক একটা উল্টো দিকও আছে । আপনি যদি নিজেকে কোন কারনে বার বার বলতে শুরু করেন যে আপনি ডিপ্রেশন এ আছেন । এটা বার বার বলতে থাকেন । তাহলে একটা সময় আপনি সত্যিই ডিপ্রেশনে চলে যাবেন । এবার আমরা দেখব কিভাবে আমাদের অবচেতন মনের ভেতর পজেটিভ চিন্তা বপন করতে পারি । অবচেতন মনের ভেতর ভেতর পজেটিভ চিন্তা ইনপুট করার অনেক গুলো রাস্তা রয়েছে । এর একটা হল মেডিটেশন । প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে এবং ঘুম থেকে উঠবার আগে চেষ্টা করুন বিশ মিনিট মেডিটেশন করার । মেডিটেশন করার সময় শুধু নিজের স্বাস প্রশ্বাসের দিকে খেয়াল রাখুন । অন্য সমস্ত চিন্তা নিজের ভেতর থেকে বের করে দিন । যখন মেডিটেশন করা শেষ হবে তখন আপনার মন আরোও শান্ত হতে শুরু করবে । এবার ঘুমাতে যান । একটা রিলাক্স মিউজিক প্লে করুন । এবং মনে মনে বলতে থাকুন । আপনি একজন পজেটিভ মানুষ, আপনি একজন সুখী মানুষ, একজন স্বাস্থবান মানুষ । এভাবে আপনি একটানা কমপক্ষে দুই মাস করুন । আপনি প্রথম পাঁচ থকে ছয় দিন পর থেকেই ভাল ফল পেতে শুরু করবেন ।

দ্বিতীয় সূত্রঃ প্রাকটিস এন্ড রিপিটেশন
আমাদের অবচেতন মন দুটো প্রক্রিয়ায় প্রগ্রামড হয় । একটা প্রাকৃতিক হিপনোসিস থেকে যেটা হয় জন্মের পরবর্তী ৭ বছর পর্যন্ত । আজ আমরা জানব এই ৭ বছর পর কিভাবে অবচেতন মনে নতুন প্রগ্রাম ইনপুট করতে পারি ।

দ্বিতীয় সূত্রটি হলো প্রাকটিস এবং রিপিটেশন । ধরুন আপনি একটি গাড়ি চালানো শিখতে চান এর জন্য আপনাকে বার বার গাড়ি চালানো প্রাকটিস করতে হবে যত বেশি বার আপনি প্রাকটিস করবেন ততই চালানোর নিয়ম গুলো অটো আপনার অবচেতন মনে প্রগ্রামড হয়ে যেতে থাকবে । প্রথম যখন আপনি ফোনে কিবোর্ড গুলো চাপা শুরু করেছিলেন তখন আপনাকে সচেতন ভাবে দেখে দেখে শিখতে হয়েছিল । কিন্তু একটা সময় আপনার অবচেতন মনে কি বোর্ডের প্রতিটা অক্ষর গেথে গেছে । এখন আর আপনাকে সচেতন ভাবে চিন্তা করে কি ক্লিক করতে হয় না । আপনার হাত এমনিতেই কী-বোর্ডের প্রতিটি যায়গায় সংক্রিয় ভাবে পৌছে যায় । ব্রুস লিপটপ এখানে খুব সুন্দর একটা পরামর্শ দিয়েছেন, আপনি যদি কিছু শিখতে চান তাহলে সেটা বার বার প্রাকটিস এবং রিপিটেশন করুন নিজের মধ্যে । আমরা যখন সাইকেল চালাতে শুরু করি তখন আমরা অনেক ভূল করি কিন্তু বার বার প্রাকটিস করার ফলে আস্তে ধীরে আমাদের মস্তিষ্কে সাইকেল চালানোর নিয়ম গুলো অটো প্রগ্রামড হয়ে যায় । ঠিক একই ভাবে আপনি যদি বড় সংগীত শিল্পি হতে চান তাহলেও আপনাকে হাজার হাজার ঘন্টার প্রাকটিস এর ভেতর দিয়েই যেতে হবে ।

দ্যা পাওয়ার অফ ইয়র সাব-কনশাস মাইন্ড Download link: click here

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!