Currently set to Index
Currently set to Follow
Books

রুকাইয়া করার নিয়ম (সব ধরনের)

রুকইয়া শোনার চেয়ে তিলাওয়াত করা উত্তম।

সেলফ/ নিজের রুকইয়াহ করার নিয়ম (বদনজর)

লিখেছেনঃ Sihal Ponir

যারা নিজেদের বদনজরে আক্রান্ত ভাবছেন বা যারা যাচাই করতে চান যে তিনি আসলেই বদনজরে আক্রান্ত কিনা তাদের জন্য এই পোস্ট উপকারী হবে ইন শা আল্লাহ। প্রথমেই নিচের লক্ষনগুলো থেকে মিলিয়ে দেখেন কতগুলো লক্ষন আপনার সাথে মিলেঃ

  • ১। শরীরে জ্বর থাকা, কিন্তু থার্মোমিটারে না উঠা।
  • ২। কোনো কারণ ছাড়াই কান্না আসা..
  • ৩। প্রায়সময় কাজে মন না বসা, নামায যিকর ক্লাসে মন না বসা।
  • ৪। প্রায়শই শরীর দুর্বল থাকা, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব লাগা।
  • ৫। চেহারা ধুসর/হলুদ হয়ে যাওয়া।
  • ৬। বুক ধড়পড় করা, দমবন্ধ অস্বস্তি লাগা।
  • ৭। অহেতুক মেজাজ বিগড়ে থাকা।
  • ৮। আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের সাথে দেখা হলেই ভালো না লাগা।
  • ৯। অতিরিক্ত চুল পড়া। শ্যাম্পুতে কাজ না করা।
  • ১০। পেটে প্রচুর গ্যাস হওয়া।
  • ১১। বিভিন্ন সব অসুখ লেগে থাকা যা দীর্ঘদিন চিকিৎসাতেও ভালো হয় না। (সর্দিকাশি, মাথাব্যথা ইত্যাদি)
  • ১২। হাত-পায়ে মাঝেমধ্যেই ব্যাথা করা, পুরো শরীরে ব্যাথা দৌড়ে বেড়ানো।
  • ১৩। ব্যবসায় ঝামেলা লেগে থাকা।
  • ১৪। আপনি যে কাজে অভিজ্ঞ সেটা করতে গেলেই অসুস্থ হয়ে যাওয়া।
প্রথমত, এসব লক্ষণ যদি দুই একটা মিলে তাহলে ইনশাআল্লাহ আপনার রুকইয়াহ করা লাগবে না। পাচ ওয়াক্ত নামায, প্রতিদিনের মাসনুন আমল এবং বেশি বেশি দোয়া করাই যথেষ্ট হবে।
মাসনুন আমল সম্পর্কে এখানে দেখুন
দ্বিতীয়ত, যদি ৪-৫ টা লক্ষন মিলে যায় তাহলে কমপক্ষে ১ সপ্তাহ বদনজরের রুকইয়াহ করা উচিত। এতে সুস্থ হলে আরও কয়েকদিন করা উচিত।
তৃতীয়ত, যদি আরও বেশি লক্ষন মিলে যায় তাহলে ২ থেকে ৩ সপ্তাহ নজরের রুকইয়াহ করলে ইনশাআল্লাহ সুস্থ হয়ে উঠবেন।
বদনজরের রুকইয়াহ করার নিয়ম এই লিংকে দেখুন
https://facebook.com/groups/ruqyahbd/permalink/748662501987738/
[খ] নজরের লক্ষনগুলো সাথে সাথে যদি আপনার জ্বিন সংক্রান্ত সমস্যা থাকে তাহলে এডমিনদের পরামর্শ নিবেন।  জ্বিন সংক্রান্ত সমস্যার লক্ষন এখানে পাবেন।
এখান থেকে যদি ২-১ টা মিলে তাহলে ইনশাআল্লাহ নজরের রুকইয়াহ করতে কোন অসুবিধা নেই। আর যদি বেশি মিলে তাহলে গ্রুপ এডমিনদের পরামর্শ অবশ্যই নিবেন।
[গ] কারও কারও নজরের সমস্যা সাথে সাথে ওয়াসওয়াসার সমস্যা থাকে। ওয়াসওয়াসার সমস্যা সম্বন্ধে জানতে এখানে দেখুন।
এখান থেকে যদি কিছু মিলে যায় তাহলে নজরের রুকইয়াহর পাশাপাশি ওয়াসওয়াসার জন্য রুকইয়াহ করবেন। ওয়াসওয়াসার রুকইয়াহ এখানে পাবেন।
https://facebook.com/groups/ruqyahbd/permalink/756862284501093/
[ঘ] যাদের রাতে ঘুমের সমস্যা হয়, ঘুমুতে ভয় পান, কোন ছায়া দেখেন, মনে হয় কেউ আছে তারা নজরের রুকইয়াহ করার পাশাপাশি আটসুরার রুকইয়াহ শুনবেন। ডাউনলোড পেইজে পাবেন আটসুরার রুকইয়াহ।
[ঙ] উপরের কথাগুলো প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য। যদি নাবালেগ কারও, ছোট বাচ্চা, দুধের বাচ্চার নজর লাগে তাহলে কিভাবে বুঝবেন? যদি ব্যবসা বা ঘরবাড়িতে, গবাদি পশু, ফসলে নজর লাগে তাহলে?
বাচ্চারা খেতে না চাওয়া, পেটে সমস্যা হওয়া, অসুখ বিসুখ লেগেই থাকা, বদমেজাজি হয়ে যাওয়া, শরীর-স্বাস্থ্য না হওয়া, পড়াশুনায় ভাল ছিল হুট করে খারাপ হয়ে গিয়েছে, কথাবার্তায় চটপটে ছিল কিন্তু এখন কথা আটকে যাচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি হলে নজরের রুকইয়াহ কর

অন্যের জন্য রুকইয়াহ করার নিয়ম

[ক] বিসমিল্লাহ, এই সিরিজে আমরা রুকইয়াহ শারইয়াহ’র মধ্যে যেসব ভুল, আপত্তিকর কিংবা পরিহার্য বিষয় মিশ্রিত হয়, সেসব নিয়ে আলোচনা করবো। আল্লাহ চায় তো এতে আমাদের দেশে প্রায় বিস্মৃত যে সুন্নাহটির পুনর্জাগরণ হচ্ছে, এটি অনেক ভুল-ভ্রান্তি এবং নোংরামির হাত থেকে রক্ষা পাবে। আর যারা সাধারণ দ্বীনি ভাই-বোন যারা সচরাচর রুকইয়াহ নিয়ে খুব একটা ঘাটাঘাটি করেন না, শুধু প্রয়োজনের তাগিদেই রুকইয়াহ করেন, তারা এধরনের বিষয় কারও মাঝে দেখলে সতর্ক করে দিতে বা ওই রাক্বি থেকে পরহেজ করতে পারবেন।
[খ] দ্বিতীয়ত: যেহেতু অনেকদিন পর আমরা একটা নতুন ধারাবাহিক শুরু করতে যাচ্ছি, এর ওপর আবার রমাযান বিভিন্ন ব্যস্ততা আছে, তাই হয়তো খুব দ্রুত একের পর এক সিরিজের লেখা আসবে না। তবে আমার চেষ্টা থাকবে দ্রুত করার, যাতে আগ্রহের রেশ বাকি থাকে। আর সাবলীল ও সংক্ষিপ্ত করার, আর অতিরিক্ত রেফারেন্স চর্চা থেকে বিরত থাকার, যাতে লেখক-পাঠক উভয়েই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
আল্লাহ যদি আগামীতে এটাকে দুই মলাটের মাঝে আনার তাওফিক দেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ রুকইয়াহ বইয়ের মত এখানেও পর্যাপ্ত রেফারেন্স এবং তাহকিক যুক্ত করে দেয়া হবে।
তৃতীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যেহেতু ভুলভ্রান্তি নিয়েই আলোচনা। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই এটা অনেকের মনকষ্টের কারণ হবে। হয়তো এই ভুলটা উনার নিজের মধ্যেই আছে অথবা উনি যার দ্বারা প্রভাবিত, তার মধ্যে আছে..।
এটাকে ব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে, যদি সবার দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের দিকে তাকিয়ে একটু সবর করা যায়, সন্দেহজনক কিংবা আপত্তিকর বিষয় এড়িয়ে যাওয়া যায়, তাহলে এটা আমাদের সবার জন্যই ভাল। এরপরেও বলবো, আমার দায়িত্ব শুধু সতর্ক করা, উম্মতের স্বার্থ খেয়াল রেখে কাজ করে যাওয়া, এরপর যার যার কর্মফল সে সে ভোগ করবে।
চতুর্থ কথা হল, আমাদের এটা স্বীকার করতে হবে ‘আমরা মানুষ’ আমাদের ভুলত্রুটি হতেই পারে। অমুক ব্যক্তি অনেক ফেমাস শাইখ বলে, তার ভুল হবে না, অথবা তার সবকিছুই মেনে নিতে হবে; বাস্তবতা কিন্তু মোটেই এরকম না। সুতরাং এই সিরিজে আমরা ‘উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থে অনেক ব্যক্তির দিকে আঙ্গুল তুলবো’। যেহেতু এখানে আমার আর্থিক বা দুনিয়াবি কোন স্বার্থ জড়িত নাই, শুধুমাত্র সুন্নাহ এবং উম্মাহর হিফাজতই উদ্দেশ্য। অতএব এর দ্বারা কেউ কষ্ট পেলে কিংবা আমাকে শত্রু মনে করলে এজন্য আমি আল্লাহর সাহায্য চাইছি, আর আল্লাহকেই সাহায্যের জন্য যথেষ্ট মনে করছি।
পঞ্চম কথা, আমরা এখানে এমন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো না, যেটা কারও ব্যক্তিগত সমস্যা। যার সাথে উম্মাহর স্বার্থ জড়িত নয়, কিংবা যে বিষয় পাবলিকলি প্রচার করা হয়নি। সুতরাং আলোচ্য বিষয় যেহেতু উম্মাহর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট, অতএব আমার জন্য অনুমতি রয়েছে এটা নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করার। সমস্যা যেহেতু পাবলিক প্লেসে এসেছে, অতএব প্রতিকারও পাবলিকলি হওয়াই উত্তম। যাতে উম্মাহর সামনে এটা দৃষ্টান্ত হিসেবে বিদ্যমান থাকে।
ষষ্ট বিষয়, যেহেতু গত দুই বছরে আমরা রুকইয়াহ শারইয়াহ এবং এতসংক্রান্ত অনেক বই পুস্তক এবং ব্যক্তির সাথে পরিচিত হয়েছি। এজন্য আমরা অনেক বই এবং ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে কথা বলব, যাদের/যেসব কন্টেন্ট অনলাইনে যথেষ্ট এভেইলেবল। তাই একান্ত অপারগতা না থাকলে, আলাদাভাবে এসবের পরিচয় বর্ণনা করব না।
সপ্তম এবং শেষ কথা হল, একটা ভয় থাকেই, এতসব সমস্যা নিয়ে আলোচনা করলে মানুষ রুকইয়াহ শারইয়াহ থেকে নিরুৎসাহিত হতে পারে। আমি বলব, ভাই! পিওর কাজ সামান্য হওয়া উলটাপালটা অনেক বেশি কাজ হওয়ার চেয়ে উত্তম। একটু রয়েসয়েই মানুষ রুকইয়াহ করুক, কম করুক, কিন্তু যেটাই করুক নির্ভেজাল হোক।
.
[গ] আমরা আলোচনায় প্রবেশ করি…
আজ আমরা ছোট্ট তবে দিনদিন ছড়িয়ে যাচ্ছে, এমন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করব, তা হল “একজনের জন্য অন্যজন রুকইয়াহ করা।” সম্ভবত এই জিনিসটা বেশি প্রচার হয়েছে মুফতি জুনাইদ সাহেবের লেকচার থেকে, উনি পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন, অথচ ঝুঁকির ব্যপারে সতর্ক করেননি।
যদিও উনার লেকচারগুলো অনুবাদ করেই এবিষয়ে আমার রুকইয়াহ বিষয়ে লেখালেখি শুরু…। পুরাতন ভাইব্রাদার-রা জানেন এটা।
কিন্তু আমি শুরু থেকেই চেষ্টা করেছি, এটা যথাসম্ভব চেপে রাখতে। সব সমস্যাগুলো আমার সামনে আসেনি, তবুও কেন যেন পছন্দ হত না বিষয়টা। আলোচনার প্রয়োজনে এই প্রসঙ্গ এসে গেলেও খুব একটা হাইলাইট না করে, অল্প কথায় পার করে দিতাম। আমাদের রুকইয়াহ সাপোর্ট গ্রুপের সহকর্মী ভাইদেরও বলেছিলাম, যেহেতু এটায় বেশ কিছু সমস্যা আছে, তাই একান্ত অপারগতা না থাকলে অনুগ্রহ করে পাবলিকলি বলবেন না।
.
শুরুতে সমস্যাগুলোর দিকে নজর দেই,
১. উপকার খুবই কম হয়। নিজে নিজে রুকইয়াহ করলে আল্লাহ চায়তো যে সমস্যা ৫-৭দিনে ভাল হয়ে যেত। সেটা ভালো হতে দুই তিন মাস লাগে।
.
২. যেহেতু সরাসরি সুন্নাহ থেকে মানকুল না, অতএব এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি।
যেমন: যে অন্যের নিয়াতে রুকইয়াহ করে, অধিকাংশ সময়েই সে ওই সমস্যাগুলোতে আক্রান্ত হয়ে যায়, যা রোগীর মধ্যে ছিল।
এটার প্রতিকার হল, একান্ত যদি করতেই হয়, তাহলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে মুক্ত থাকার জন্য নিয়মিত রুকইয়ার গোসল করা।
.
৩. এছাড়াও যে অন্যের জন্য রুকইয়াহ করছে, তার নিজের যদি জিন বা জাদু সংক্রান্ত সমস্যা থাকে। তাহলে অনেক সময় রোগীর মাঝে যে রুকইয়াহ করছে তার সমস্যাগুলোর প্রভাব দেখা যায়।
এর সমাধান হল, যার একটু বেশি সমস্যা আছে, সে পারতপক্ষে অন্য রোগীর জন্য রুকইয়াহ করবে না। এটা সরাসরিও না, দূর থেকেও না। বিশেষ ক্ষেত্রে অপারগতা হেতু যদি করতেই হয়, (যেমন স্বামীস্ত্রীর বিচ্ছেদের যাদু করা হয়েছে, দু’জন দুই যায়গায় অবস্থান করছে) তাহলে আগে নিজের জন্য রুকইয়াহ করে নিজের সমস্যা ভাল হওয়ার পর অন্যের জন্য রুকইয়াহ করবে।
আর অবস্থার কিছু উন্নতি হওয়া মাত্রই নিজে রুকইয়াহ বন্ধ করে, আসলে সমস্যা আছে যার; তাকে রুকইয়ার জন্য কনভিন্স করবে।
.
৪. যদি নিজের এবং অন্যের নিয়াতে একসাথে রুকইয়াহ করে। আর দুজনেরই বিভিন্ন রকমের সমস্যা থাকে। তাহলে মোটামুটি একটা জগাখিচুড়ি পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায়। অতএব, ভাইজান এই পাগলামি ভুলেও কইরেন না! একশ গজ দূরে থাকেন।
তবে স্বামীস্ত্রীর বিষয়টা ভিন্ন, যদি দুজনের বিচ্ছেদের জন্য একসাথেই যাদু করা হয়, তখন যেহেতু সমস্যা মূলত একটাই। তাই এভাবে রুকইয়াহ করলে ফায়দা হয়, কিন্তু অগ্রগতি খুবই স্লো…। অতএব পারতপক্ষে ঝামেলায় না যেতে পারলেই সবচেয়ে ভাল।
.
৫. একান্ত অপারগতা হেতু অন্যের জন্য রুকইয়াহ করতে হলে পারতপক্ষে অডিও তিলাওয়াত না শুনে, নিজেই তিলাওয়াত করা, আর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া / সমস্যা থেকে মুক্ত থাকার জন্য নিয়মিত রুকইয়ার গোসল করা গতানুগতিক রুকইয়ার চেয়ে তুলনামূলক ভাল।
.
[ঘ] মাস কয়েক আগে, ইয়েমেনের এক শাইখের সাথে কথা হচ্ছিল, উনি নাকি মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন রহ. এর থেকে কিছুদিন ইস্তিফাদা করেছেন। আল্লাহু আলাম! উনি অন্যের জন্য রুকইয়াহ করার বিষয়টা শোনার পর এটাকে বিদআত বলে দিয়েছেন পুরা!
আমি কিছুক্ষণ হ্যাং হয়ে থাকলাম উনার কথা শোনার পর।
পরে বুঝতে পারলাম যে, উনি রুকইয়াহ-কে চিকিৎসা হিসেবে না গণ্য করে, নামাজ-রোজা, হজ্জ ইত্যাদির মত ইবাদাতে মাখসুসাহ ক্যাটাগরিতে ফেলে বিধান বর্ণনা করেছেন। এটা আবার আরেক ভুল! কি বিপদ…
ইনশাআল্লাহ এটা নিয়ে আমরা আরেকদিন আলোচনা করব।

স্বামীর রুকাইয়া করার নিয়ম

অনেকেই অভিযোগ করেন স্বামী তার কথা শুনে না বা পরনারীতে আসক্ত। এজন্যও বিভিন্ন রুকইয়াহও চেয়ে বসেন। কিন্তু আপনি কি জানেন সম্পূর্ণ হালাল ভাবেই আপনি আপনার স্বামীকে যাদু করতে পারেন? এর জন্য দরকার একটু সচেতনতা। আমাদের সমাজে স্বামী-স্ত্রী অমিলের পিছনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একে অপরের প্রতি দায়িত্ব, অধিকার ও ভালোবাসার অভাব কাজ করে। বেশিরভাগ দম্পত্তিই জানেন না তাদের এই “বিবাহ বন্ধনের উদ্দেশ্য কি”। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা সূরাতুর রুম এর ২১ নং আয়াতে বলেনঃ “এবং তার নিদর্শনাবলীর মধ্যে হচ্ছে তিনি তোমাদের মধ্যে থেকে তোমাদের জন্য সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা তাদের মাঝে প্রশান্তি (সুকুন) খুঁজে পাও এবং তিনি তোমাদের মাঝে দয়া ও ভালোবাসা সৃষ্টি করেছেন।” এই আয়াতে আল্লাহ আমাদেরকে বিয়ের উদ্দেশ্য বলে দিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন যেন আমরা একে অপরের মাঝে “প্রশান্তি” খুঁজে পাই। এই প্রশান্তি বলতে শারিরীক ও মানসিক দুইধরণের প্রশান্তিকেই অন্তর্ভুক্ত করে। শারিরীক প্রশান্তির কথা সবাইই বুঝি, কিন্তু মানসিক প্রশান্তির ব্যাপারে কতজনই বা সচেতন। আপনি চিন্তা করুন খাদিজাহ বিনতে খুইয়ালিদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার কথা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন হিরা গুহাতে জিব্রীল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে প্রথম দেখে ভীত সন্ত্রস্ত ছিলেন, জীবনের প্রথম তিনি এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলেন, একজন মালাকের সম্মুখীন হলেন, সেই মালাক তাঁকে বুকে করে তিনবার চাপ দিলেন। আপনি চিন্তা করুন, একজন না জানা মানুষের জন্য এটি কতটা ভীতিকর অভিজ্ঞতা। এই মূহুর্তে কে তাঁকে সান্তনা দিয়েছিলেন? তিনি হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সম্মানিতা স্ত্রী, খাদিজাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা। তিনিই তাঁকে শান্ত করেছিলেন। বুঝিয়েছিলেন যে তিনি মানুষের সাথে সদাচরণ করেন তাই আল্লাহ তার অমঙ্গল করবেন না। এটাই হচ্ছে সুকুন। যখন আপনার স্বামী বাইরে থেকে হন্তদন্ত হয়ে ফিরে আসবেন, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত আর চরম ব্যস্ততময় দিন পার করে ঘরে ফিরবেন, তখন যেন তিনি আপনার কাছে ফিরে প্রশান্তি পান। তখন যেন তিনি আপনাকে আস্থাভাজন ভেবে সব খুলে বলতে পারেন। তখন যেন তিনি তার প্রয়োজনীয় সামগ্রী হাতের কাছে তৈরী পান। আপনি সমস্যার সমাধান করতে না পারুন, তাকে তো মানসিক ভাবে শান্ত করতে পারেন। আপনি যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মতন স্বামী চান, তাহলে আপনাকে হতে হবে খাদিজাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার মত। এই বোধটারই চরম অভাব আজকের দম্পত্তিরদের মাঝে। এছাড়াও বোনেরা আরো কিছু ভুল করেন যার কারণে স্বামীরা দূরে সরে যায়। সংক্ষেপে এমনঃ →→ স্বামী হিসেবে একজন পুরুষ তার স্ত্রীর কাছ থেকে আনুগত্য কামনা করে। এবং এই আনুগত্যই হচ্ছে “মূল অস্ত্র” যেটা দিয়ে স্ত্রী তার স্বামীকে পুরোপুরি নিজের করে পেতে পারে। শরীয়াহ অনুমোদিত সমস্ত কাজে স্বামীর আনুগত্য করা ওয়াজিব। শাইখ আল আলবানী তার আদাবুল যিফাফ গ্রন্থে বলেনঃ “স্বামীর কামনা পূরণ করার ক্ষেত্রে স্বামীর আনুগত্য করা স্ত্রীর জন্য ওয়াজিব। তাই এটা আরো বেশি জরুরী যে স্বামীর কামনা পূরণ করার চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেমন তার সন্তান লালন পালন করা, তার পরিবারের হিফাযত করা ও অন্যান্য দায়িত্বগুলো পালন করার ক্ষেত্রে স্বামীর আনুগত্য করা।” স্বামীর প্রতি আনুগত্য কোন পর্যায়ের হওয়া উচিত ইবনে মাজাহতে বর্ণিত একটি হাদীসে থেকেই বুঝা যায়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ “যদি আমাকে আল্লাহ ব্যাতীত অন্য কাউকে সিজদাহ করার আদেশ দেওয়া হতো, তাহলে আমি স্ত্রীদের নির্দেশ দিতাম তাদের স্বামীকে সিজদাহ করতে। ” (আলবানি হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন।) →→বিয়ে নামক সামাজিক বন্ধনের অন্যতম মূল উদ্দেশ্যই হল নিজের কামনা বাসনাকে হালাল উপায়ে পূরণ করা। এক্ষেত্রেও ইসলাম নারীদেরকে স্বামীর আনুগত্য জরুরী করেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, “সেই স্বত্তার কসম যার হাতে আছে মুহাম্মাদের (ﷺ) প্রাণ। কোন নারী আল্লাহর প্রতি দায়িত্ব সম্পূর্ণ করতে পারে না, যতক্ষণ না সে তার স্বামীর প্রতি দায়িত্ব পূর্ণ করে। যদি কোন স্বামী তার স্ত্রীকে আহবান করে, আর স্ত্রী যদি উটের জিনের উপরও থাকে তার (স্ত্রীর) প্রত্যাখ্যান করা উচিত নয়। ” →→বোনদের মাঝে যে ঘাটতি ভয়াবহ আকারে দেখা যায় সেটি হচ্ছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করা। ইউনিভার্সিটিতে আমাদের স্যার বলতেন, “পৃথিবীর বুকে এমন কোন স্বামী নেই, যে কিনা এ কথা শুনেনি যে আমি বলেই তোমার সংসার করেছি। অন্য কেউ হলে কবেই চলে যেত।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি হাদীসে নারীদের বেশি জাহান্নামী হওয়ার পিছনে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন (ভাবানুবাদ) “তারা স্বামীদের প্রতি অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। দশটা জিনিস পাওয়ার পর, একটি জিনিস না পেলেই তারা অকৃতজ্ঞতা স্বরূপ বলে বসে আমি কিছুই পাইনি।” শাইখ ওয়াহিদ বিন আবদুস সালাম তাঁর “কুর’আনিক চিকিৎসা” বইতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার উল্লেখ করেন। সেটির ভাব কথা এমনঃ “এ পর্যায়ে আমি মুসলিম নারীদের জন্য একটি উপদেশ পেশ করছি। আর তা হল সে ইচ্ছা করলে তার স্বামীকে হালাল যাদু করতে পারে। নারী স্বামীকে আকৃষ্ট করার জন্য অধিক সৌন্দৰ্য্য ও সাজ-সজ্জা করবে, তাহলে তার স্বামীর দৃষ্টি অসুন্দর ও কুশ্রী বস্তুর প্রতি যাবে না। এমনিভাবে মুচকি হাসি, উত্তম কথা, কোমল আচরণ, স্বামীর সম্পদ সংরক্ষণ, তার সন্তানাদির প্রতি অত্যধিক যত্নবান হওয়া এবং আল্লাহর নাফরমানী ব্যতিত সকল ক্ষেত্রে স্বামীর আনুগত্য করা ইত্যাদি দ্বারা সে স্বামীর উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। পরিতাপের বিষয় যে, আমরা যদি আমাদের আধুনিক সমাজের দিকে তাকাই তাহলে এর সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থা দেখতে পাই। বর্তমান সমাজে নারীরা তাদের উত্তম পোষাক-পরিচ্ছদ ও শাড়ি-গহনা ইত্যাদি পরিধান করে কোন অনুষ্ঠানে বা কোন বন্ধু-বান্ধবের সাক্ষাতের সময় বা বিশেষ কোন কমিউনিটি সেন্টারে কোন আয়োজনে। সে এমনভাবে নিজেকে সাজায় যেন আজকেই তার বাসর উদযাপনের দিন। আর যখন সে তার স্বামীর ঘরে ফিরে আসে তার সকল সৌন্দর্য ও অলংকারাদি খুলে এবং আরেকটি অনুষ্ঠানের জন্য রেখে দেয় । অথচ তার অসহায় যে স্বামী তাকে এসব পোষাক ও অলংকার ক্রয় করে দিল, সে তাকে একটি দিনের জন্যও এগুলো পরিহিত অবস্থায় দেখতে পায় না। তার সামনে সর্বদা এমন পুরাতন কাপড় পরিধান করে যা থেকে ঘাম, পেয়াজ ও রসূনের দূর্গন্ধ বের হয়। এই নারীর যদি সামান্য বিবেক থাকত তাহলে সে বুঝতে পারত যে, তার স্বামীই এ সৌন্দর্যের অধিক উপযোগী। হে নারী! তোমার স্বামী যখন তার কর্মে বেরিয়ে পড়ে তুমি ঘরের কাজকর্ম জলদি গুছিয়ে ফেল । অতঃপর গোসল করে নিজেকে সৌন্দর্যমণ্ডিত কর এবং স্বামীর অপেক্ষা কর । যখন তোমার স্বামী তার কাজ হতে ঘরে ফিরে সুন্দর স্ত্রী, প্রস্তুতকৃত খাবার, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখতে পাবে তখন তোমার প্রতি তার ভালবাসা ও আন্তরিকতা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষত এসব যখন তুমি স্বামীর জন্য সৌন্দর্যের ব্যাপারে আল্লাহর হুকুম পালন করবে ও তাকে হারাম হতে রক্ষা করার নিয়তে করবে। কেননা উদরপূর্ণ লোক খাবারের প্রতি আসক্ত থাকে না। খাবারের প্রতি আকর্ষণ থাকে একমাত্র তারই, যে খাবার হতে বঞ্চিত হয়েছে।” আলহামদুলিল্লাহ কতই না উত্তম নসীহাহ দিয়েছেন শাইখ!!

 

কয়েকজনের জন্য একসাথে রুকইয়াহ করা

ক] অনেক সময় রাকি একসাথে কয়েকজনকে রুকইয়াহ একসাথে করেন। কেউ কেউ এটাকে মাস এক্সোর্সিজম (mass exorcism) বা মাস রুকইয়া বলে। ইউটিউবের কোন কোন ভিডিওতে দেখা যায়, একটা রুম অথবা মসজিদ ভর্তি মানুষ বসে আছে, সামনে একজন রাকি দাঁড়িয়ে রুকইয়ার আয়াত পড়ছে। রোগীদের কেউ কেউ ঘুমাচ্ছে, কারও জিনের সমস্যা আছে সে লাফালাফি শুরু করে দিয়েছে (চর্মোনাইয়ের জিকিরের মত!) কেউ শুয়ে তড়পাচ্ছে… ইত্যাদি ইত্যাদি। কেমন যেন এক বিভীষিকাময় অবস্থা।
খ্রিষ্টানদের চার্চগুলোতেও ওদের প্রিস্ট / পাদ্রি / ধর্মগুরুরা মাস এক্সোরসিজম করে, এক্ষেত্রে বিশপের থেকে স্পেশাল পারমিশন নিয়ে আসতে হয়।

[খ] আমরা প্রথমে দেখি এমনটা কেন করে?
প্রথমতঃ অনেক রোগীর চাপ থাকলে, সেটা সামাল দিতে। অর্থাৎ একে একে রুকইয়াহ করার মত পর্যাপ্ত সময় রাকির হাতে নেই, কিংবা এই পরিমাণ রাকি নেই যে এতগুলো রোগীর রুকইয়াহ করবে। তাই…
দ্বিতীয়তঃ এমনিতেই ভাল্লাগতেসে না, মানে অবহেলা করে। কয়েকজনকে একসাথে বসিয়ে রুকইয়া করে বিদায় করে দিল। এরপর টাকা যা নেয়ার নিয়ে নিল…
তৃতীয়তঃ অজ্ঞতাপ্রসূত। (বিভিন্ন কিসিমের জাহালতের কারণে করতে পারে। জ্ঞানের সীমা আছে, জাহালতের তো কোন সীমা-পরিসীমা নাই…) যেমন: রুকইয়াহ তো করতেইসি, অমুককেও এখানে বসিয়ে দেই।
এছাড়াও এভাবে রুকইয়াহ করার আরেকটা কারন হতে পারে, অহংকার! মানুষকে দেখানো যে “আই অ্যাম বিরাট কুছ!”

[গ] যে সমস্যাগুলো হয় বলি-
১. রুকইয়ার ক্ষেত্রে মনযোগ একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি একাধিক রোগীকে রুকইয়াহ করতে গেলে একজনের যদি উল্টাপাল্ট ইফেক্ট হতে লেগে, তখন আরেকজন থেকে মনযোগ ছুটে যাবে। কয়েকজনের একসাথে প্রবলেম শুরু হলে বাজে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে যায়।
দুজনের ঘটনা এমন শুনেছিলাম, দুজনেই জ্বিন+জাদুর রোগী ছিল, একসাথে রুকইয়া করা হত, তো কখনও কখনও একসাথে দুইজনের ওপর জিন চলে এসে ঝগড়াঝাঁটি গালিগালাজ শুরু করে দিত। আমি যখন এই দুইজনের রুকইয়াহ করেছি, যথেষ্ট ভোগান্তি হয়েছে। দুইজন একসাথে আমাকে আক্রমণ করতে উঠে চলে আসতো। পরে মনে হচ্ছিল এই সময়টা দুজনের আলাদা আলাদা করে রুকইয়া করলেই ভাল ছিল।
২. নিয়াত- এটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ চাবি। নির্দিষ্ট নিয়াতে রুকইয়াহ করলে ফায়দা বেশি হয়। এজন্য একাধিক নিয়াত ঢুকে গেলে ঝামেলা হয়। ফায়দা কমে যায়।
৩. অনেক সময় একজনের সমস্যা আরেকজনের মধ্যে ঢুকে যায়। বিশেষতঃ দুজনের কেউ যদি বদনজর কিংবা ওয়াসওয়াসা রোগী হয়ে থাকে।
একবার আমার এক রিলেটিভের জন্য রুকইয়াহ করছিলাম, তিলাওয়াতের মধ্যে মনে হল কি? আমারও তো একটু প্রবলেম হচ্ছে, একসাথে দুইজনের নিয়াত করি। একটু পর দেখি আমার সমস্যা উনার শুরু হয়েছে। অথচ আমারটা শারীরিক অসুস্থতা ছিল…
কোন ভাই যেন বললেন, এক বাচ্চার রুকইয়ার সময় উনার বাচ্চাও সাথে ছিল, উনি ভাবলেন একসাথে দুইজনের নিয়তে তিলাওয়াত করি। পরে উনার বাচ্চা অসুস্থ হয়ে গেছে…

[ঘ] তাহলে আমাদের করণীয় কি?
একান্তই অপারগতা না থাকলে একাধিক রোগীর রুকইয়াহ একসাথে করবেন না।
আর তবুও পরিস্থিতি চলে আসে, তাহলে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন:
.
– যদি ছোটখাটো সমস্যা হয়, আর রোগীরা একই ফ্যামিলির হয়। তাহলে করতে পারেন।
যেমন, রাসূল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার দুই নাতির জন্য একসাথে রুকইয়াহ করেছিলেন বলে কয়েকটা হাদিসে পেয়েছি। (সহিহ-যয়িফ সবরকম সনদেই আছে)
– ফ্যামিলির সবার সমস্যা একসাথে ডায়াগনোসিস করতে চাচ্ছেন। কিংবা সমস্যা একটাই, সেটাতে পুরা ফ্যামিলি ভুগছে (যেমনঃ সুখ-স্বচ্ছলতায় নজর লেগেছে, কিংবা সবাইকে একসাথে যাদু করেছে, স্বামীস্ত্রী দুজনকে বিচ্ছেদের জন্য যাদু করেছে) এসব ক্ষেত্রে করতে পারেন।পরিবারের বিষয়গুলো আসলেই অন্যরকম…
– যদি কারও সেন্সিটিভিটি বেশি থাকে। বিশেষত যারা অনেক পুরাতন কিংবা বাজে ধরনের জাদুতে আক্রান্ত, তাদের ক্ষেত্রে ভুলেও অন্য কারও সাথে রুকইয়াহ করা উচিত না।
– ওয়াসওয়াসা আর নজরের সমস্যা বেশি থাকলে কি হয় বললামই তো। এরকম ক্ষেত্রেও পারতপক্ষে না করা।
– আর নুরুদ্দিন ইন্দুনিসির মত ওইরকম সব মানুষরে একসাথে বসাইয়া মাইক দিয়ে …। ভাই!! এগুলা পাগলামি কইরেন না প্লিজ..।

ওয়ামা আলাইনা ইল্লাল বালাগ!

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!