Currently set to Index
Currently set to Follow
Best Bangla Pdf Book List 01

পথের পাঁচালী পুরো উপন্যাস pdf download – Pather Panchali by Bibhutibhushan Pdf

বইয়ের নাম: পথের পাঁচালী Pdf Download free
লেখকের নাম: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সম্পাদকের নাম: ড. গিয়াস শামীম
প্রকাশনী: ভাষাপ্রকাশ
ক্যাটাগরি: চিরায়ত উপন্যাস

পথের পাঁচালী বই রিভিউ:

বিংশ শতাব্দীর প্রথম দুই দশকে সংঘটিত দৈশিক ও আন্তর্দেশিক আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক বিবিধ ঘটনা, আন্দোলন ও আলােড়নের প্রতিক্রিয়ায় কল্লোল’পর্বের লেখকেরা জীবনের অব্যবহিত জটিলতার বিবরণকে তাঁদের সাহিত্যকর্মের প্রধান প্রতিপাদ্য মনে করেছিলেন। ইতঃপূর্বে, ঊনবিংশ শতাব্দীতে, বাংলার অসম্পূর্ণ আলােকপর্বে বঙ্গীয় ভাবুক-সমাজ এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের
(১৮৩৮-১৯৯৪) মতাে কথাশিল্পীর বিশ্বাস ছিল- মানুষ সচেতন বিবেকাংশ-চালিত সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। মানুষের আচরণ ও কর্মপ্রক্রিয়াকে তার মনােচৈতন্যের সচেতন অংশের দায় হিসেবে ব্যাখ্যা করতে তাঁরা অভ্যস্ত ছিলেন। দুর্গেশনন্দিনীর আয়েষা, কপালকুণ্ডলার মতিবিবি, বিষবৃক্ষের কুন্দনন্দিনী, চন্দ্রশেখরের প্রতাপ-শৈবলিনী, কৃষ্ণকান্তের উইলের রােহিণী-গােবিন্দলাল, রাজসিংহ উপন্যাসের জেবউন্নিসা প্রভৃতি চরিত্র উপযুক্ত বিশ্বাস ও প্রত্যয়ের আদলে নির্মিত। কিন্তু কল্লোল-পর্বের ধারণা হলাে- মানুষের উপরিতলবর্তী বিবেকের অন্তরালে নিগূঢ় বিরাট অবচেতন কার্যকর। মানুষের সক্রিয়তা কেবল বিবেকচালিত নয়, বরং লিবিডােশাসিত এবং মনােজগতের অবচেতন স্তর দ্বারা পরিচালিত। সিগমুন্ড ফ্রয়েড, কার্ল গুস্তাভ যুং, হ্যাভলক এলিস প্রমুখের মনােবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণসূত্রে অধিসত্তা (super-ego)-চালিত মানুষ সম্পর্কে বিশ্বাসের এই বিপর্যয় কল্লোল-পর্যায়ের অর্থাৎ ত্রিশের কালের লেখকদের একটা অসম্পূর্ণ, বিকারগ্রস্ত ও
পঙ্কমথিত জীবনবােধে উপনীত করে। ফলে তাঁদের কথাশিল্পও হয়ে ওঠে এই খণ্ডিত জীবনপ্রত্যয়ের শিল্পরূপ। বলাবাহুল্য, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কল্লোলীয় এই নেতিচেতনায় আস্থাশীল ছিলেন না; লিবিডাের পরিবর্তে তিনি দুঃখ, মমতা ও কারুণ্যকে
মানবজীবনের পরম সম্পদ বিবেচনা করেছেন। মানুষের ওপর কখনােই আস্থা হারাননি তিনি । মানুষ ও মানবতা তাঁর সমগ্র সাহিত্যকর্মে অভিষিক্ত হয়েছে উচ্চমূল্যে।

দুই
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৪-১৯৫০) আত্মজীবনাভিজ্ঞতার পটভূমিকায় রচনা করেছেন পথের পাঁচালী (১৯২৯)। গ্রামবাংলার মৃত্তিকার ঘ্রাণসমৃদ্ধ, তৃণমূললগ্ন সাধারণ মানুষের বক্ষস্পন্দিত জীবনের ইতিকথা উপস্থাপিত হয়েছে এ-উপন্যাসে। এর খণ্ডসংখ্যা তিনটি : বল্লালী-বালাই, আম-আঁটির ভেঁপু, অক্রুর সংবাদ । তিন খণ্ডের পরিচ্ছেদ-সংখ্যা পঁয়ত্রিশ। এই পরিচ্ছেদসমূহের মাধ্যমে একদিকে বিভূতিভূষণ প্রায় শতবর্ষব্যাপী বাংলাদেশের একটি নিখুঁত ও বিশ্বাসযােগ্য চিত্র অঙ্কন করেছেন : গ্রাম-সমাজের অভাব-দারিদ্র্য, উপায়হীন অনশন, উদারতা-সংকীর্ণতা, মানবচরিত্রের একান্ত ভয়ানক ঈর্ষা-বিদ্বেষ, কুৎসা, অমানবিক কূর প্রথা, নীরব-শান্ত নিষ্ঠুরতা প্রায় কিছুই বাদ যায়নি।

qqqqqঅন্যদিকে উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র অপুর মাধ্যমে তিনি দেখাতে চেয়েছেন এই পৃথিবী-প্রকৃতি, মানুষ ও জীবন কতবেশি সুন্দর; বােঝাতে চেয়েছেন জীবনে বেঁচে থাকার জন্যে
ব্যাপক কোনাে আয়ােজনের প্রয়ােজন নেই, অঢেল ঐশ্বর্য অহেতুক, অকিঞ্চিৎকর
উপকরণকে সম্বল করেও মানুষ উন্নীত হতে পারে মহত্তর জীবনার্থে । দুঃখ-দারিদ্র্য,
অভাব-অনটন, প্রতিকূল পট-পরিবেশ মানুষের চলার পথ থামিয়ে দিতে পারে না;
প্রতিহত করতে পারে না তার সৃষ্টিশীল জীবনাবেগ। পথের পাঁচালী তাই, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের মতে, প্রকৃতিপ্রেমের গল্প নয়, রূপময় প্রকৃতির বন্দনা নয়, দারিদ্রের কাহিনি নয়- এসবের ভিতর দিয়ে মানুষের বেড়ে-ওঠার গল্প।
দেহমনপ্রাণে জীবনের নির্যাস গ্রহণ করবার শৈল্পিক বয়ানই হচ্ছে পথের পাঁচালী।
পথের পাঁচালী উপন্যাসে জীবনের বিন্যাস অনেক পাঠককে আকৃষ্ট করলেও বহু সমালােচক এর সংগঠন, কাহিনিসংস্থান ও চরিত্রায়ণ প্রসঙ্গে বিশৃঙ্খলা ও শিথিলতার
অভিযােগ তুলেছেন। কেউ কেউ বল্লালী-বালাই’ ও ‘অক্রুর সংবাদ’ অংশের প্রয়ােজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন :

১. আমার কেমন যেন বিশ্বাস বল্লালী-বালাই’ ও ‘অক্রুর সংবাদ’ পথের পাঁচালীর অনিবার্য
অংশ নয়। অপুর জন্মের সঙ্গে যে কাহিনির সূত্রপাত, নিশ্চিন্দিপুর গ্রামত্যাগে তার
স্বাভাবিক পরিসমাপ্তি । এ কাহিনির স্বভাবতই আদি-অন্ত নেই। তাই ঐ আদি ও
অন্তটুকু অর্থাৎ বল্লালী-বালাই’ ও ‘অক্রুর সংবাদ’ হেঁটে দিলে পথের পাঁচালীর
রসহানি হয় এমন মনে হয় না।

২. বল্লালী-বালাই’-এর শাখাপথ, মূলপথ থেকে অনেক দূর বেঁকে গিয়েছে এবং পুনর্বার বাঁক ঘুরে মূলপথের সঙ্গে যুক্ত হয়নি ।… এতেই মনে হয়, পথের পাঁচালীর পালা-ভাগ, খণ্ড-ভাগ কোনাে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুসারে হয়নি।
‘আম-আঁটির ভেঁপু নিঃসন্দেহে পথের পাঁচালীর অনিবার্য অংশ। এ-অংশে উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র অপু কীভাবে তার স্বগ্রাম নিশ্চিন্দিপুরের জনজীবনমূলের সঙ্গে সংলগ্ন হয়ে বেড়ে উঠেছে তার বৃত্তান্ত প্রদর্শিত হয়েছে। একদিকে নিশ্চিন্দিপুর গ্রামের দুঃখ-দাহ-যন্ত্রণা, অভাব-অনটন-দারিদ্র্য, অনশন-অর্ধাশন ও সংকীর্ণতার মধ্য দিয়ে সে বেড়ে উঠেছে, অন্যদিকে প্রকৃতির প্রবর্তনা, মাতৃসান্নিধ্য, সাহিত্যতৃষ্ণা, গ্রন্থ প্রভৃতির মাধ্যমে নির্মিত হয়েছে তার অনুভবঋদ্ধ অন্তর্জগৎ। প্রাকৃতিক দীক্ষার সূত্রে অপু চরিত্রে বালক-বয়স থেকেই অঙ্কুরিত হয়েছে অধ্যাত্মচেতনা, মিস্টিসিজম ও প্রবহমান কালচেতনা ।

‘আম-আঁটির ভেঁপু’ পথের পাঁচালীর অনিবার্য অংশ হলেও একমাত্র অংশ নয়। এই
অংশটিকে অনেকবেশি যৌক্তিক ও বাস্তবতামণ্ডিত করবার জন্য ‘বল্লালী-বালাই’ অংশটি সংযােজন করেছেন বিভূতিভূষণ। উপন্যাসে লেখক শিশু-অপুর বড়াে হওয়ার কাহিনি বলতে চান। এই শিশু যে ভূঁইফোড় নয়, সে যে কিছু পারিবারিক ও সামাজিক
উত্তরাধিকার নিয়ে জন্মেছে, এবং যে-গ্রামে সে জন্মেছে তারও যে ইতিহাস রয়েছে তা
প্রদর্শিত হয়েছে ‘বল্লালী-বালাই’ অংশে। এ-অংশের ইন্দির ঠাকরুণ এক গ্রামজীবননির্ভর
প্রাচীন সামাজিক-পারিবারিক ইতিহাসের প্রতিভূ বটে। মূলত বল্লালী প্রথার যাঁতাকলে
পিষ্ট ইন্দির ঠাকরুণের করুণ জীবনপরিণাম অঙ্কনসূত্রে বিভূতিভূষণ অপুর পিতা হরিহর
ই রায় ও পিতামহ রামাদ রায়ের যাপিত জীবনের কিছু খণ্ড ও বিচ্ছিন্ন চালচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে যেন দেখাতে চেয়েছেন, পরবর্তীকালে অপু যেসব জীবনবৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে তার অনেকগুলিই অর্জিত হয়েছে উত্তরাধিকারসূত্রে। এদিক থেকে বিবেচনা করলে ‘বল্লালী-বালাই’ অংশের গুরুত্ব নিঃসন্দেহে অশেষ ।
সন্দেহ নেই পথের পাঁচালী ভিক্টোরীয় রীতির উপন্যাস। কিন্তু এর গঠনশৈলীতে এমন একটা
অভিনবত্ব আছে যা আপাতভাবে দৃষ্টিগ্রাহ্য নয়। একথা সত্য যে, পথের পাঁচালী আদি-মধ্য-
অন্ত্যযুক্ত উপন্যাস; এবং এও সত্য যে, বিংশ শতাব্দীর উপন্যাসের ভিন্নতর সময়জ্ঞান, প্লট-
ধারণা, চরিত্রায়ণ পদ্ধতি এবং এরিস্টটলীয় ত্রিনীতি-স্তর ভেঙে যুদ্ধোত্তর ইউরােপীয় উপন্যাসের যে রূপ, তার সঙ্গে পথের পাঁচালীর তুলনা চলে না। কিন্তু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিভূতিভূষণ বাহ্যভাবে ভিক্টোরীয় পদ্ধতি অনুসরণ করলেও তার ভেতর আবদ্ধ থাকেননি।
তিনি আপাত ভিক্টোরীয় রীতির কাহিনির মধ্যে একটা পৌরাণিক সংগঠন সৃষ্টি করেছেন। পথের
পাঁচালীর বল্লালী-বালাই’, ‘আম-আঁটির ভেঁপু, অক্রুর সংবাদ’ নামাঙ্কিত তিনটি অংশের
পরস্পরিত গ্রন্থনায় পৌরাণিক সংগঠন সৃষ্টির নিভৃত প্রণােদনা কার্যকর। বল্লালী-বালাই’ ও
‘আম-আঁটির ভেঁপু’র পর ‘অক্রুর সংবাদে পৌঁছলে বিভূতিভূষণের পুরাণলগ্ন অভিপ্রায় স্পষ্ট
হয়ে ওঠে। অক্রুর সংবাদ’-বিষয়ক যে কাহিনি লােকপুরাণে পাওয়া যায় তা এরকম : মথুরার
রাজা উগ্রসেনের পুত্র কংস ছিলেন অনাচারী। তিনি পিতাকে রাজ্যচ্যুত করে মথুরার রাজা হন,
এবং রাজ্যজুড়ে রু করেন নির্মম অত্যাচার ।তার অত্যাচার থেকে মথুরাকে রক্ষা করবার জন্য
কংসের ভগিনী দেবকীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন বিষ্ণুর অষ্টম অবতার কৃষ্ণ। জন্মের পর কৃষ্ণ
গােপনে প্রেরিত হন বৃন্দাবনে। এখানকার প্রকৃতি ও নিসর্গের সংস্পর্শে বেড়ে ওঠার এক
পর্যায়ে পিতৃব্য অরের কাছে সংবাদপ্রাপ্ত হয়ে শ্রীকৃষ্ণ গমন করেন মথুরায়, এবং কংসের
বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হন।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথের পাঁচালী উপন্যাসে অপু চরিত্রের ক্রমবিকাশ উপযুক্ত
কৃষ্ণবিষয়ক পুরাণকাহিনির প্রতীকী ব্যঞ্জনাসূত্রে অনুধাবনীয় । দায়িত্ব পালনের জন্য
কৃষ্ণকে যেভাবে বৃন্দাবনের নিসর্গলােক, ব্রজপল্লির ভালােবাসা, গােপ-গােপিনীর সঙ্গ
পরিত্যাগ করে মথুরায় যেতে হয়েছিল, অপুকেও ঠিক তেমনি নিশ্চিন্দিপুরের প্রকৃতিলালিত আনন্দলােক পরিত্যাগ করে যেতে হয়েছে কাশীতে; হতে হয়েছে রূঢ় বাস্তবতার মুখােমুখি । এখানে আসার অল্পকাল ব্যবধানে মারা যায় তার পিতা হরিহর রায়; মা সর্বজয়া বড়লােকের বাড়ির রাঁধুনিতে নিয়ােজিত হয়। ফলত কৃষ্ণের মতােই
শুরু হয়ে যায় অপুর জীবনসংগ্রাম ।
পথের পাঁচালী ভিক্টোরীয় রীতির উপন্যাস হলেও বিভূতিভূষণ এভাবে তার ভেতর একটা
পৌরাণিক সংগঠন সৃষ্টি করে উপন্যাসটিকে করে তুলেছেন অভিনব ও বিশিষ্ট। লােকপুরাণের
কাহিনি এত স্বতঃস্ফূর্তভাবে আধুনিক উপন্যাসে তিনি যােগ করেছেন যে, বাইরে থেকে তা
বােঝার উপায় নেই। গবেষক-সমালােচক সৈয়দ আকরম হােসেন পথের পাঁচালী ও অপরাজিত উপন্যাসকে একটি উপন্যাসরূপে বিবেচনা করে তাই সুস্পষ্টভাবে বলেছেন : মূলত পথের পাঁচালী-অপরাজিত উপন্যাসের শরীর-গঠনে ও বিষয়-অন্তর্বয়নে অন্তর্লীনভাবে সক্রিয় থেকেছে অস্থিতে মিথ, শােণিতে সমকাল’ (সৈয়দ ১৯৯৭ : ৭৯)।

পথের পাঁচালী pdf download link: Click here

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!