Currently set to Index
Currently set to Follow
Sadat Hossen Pdf (১২টি বই ডাউনলোড)

Nirbason by Sadat hossain Pdf free Download

বই: নির্বাসন
লেখক: সাদাত হোসাইন
মুল্য: (অযৌক্তিক) অনেক বেশি।

নির্বাসন বই রিভিউ:

লেখকের নাম দেখে আগ্রহ হচ্ছে? সেই আশার গুড়ে বালি। আমি শুধু বইটা নিয়েই কথা বলব। লেখক আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ না।

দুর্বল গদ্য আর সবল আবেগ, মিশ্রণে যা এসেছে তার নাম “নির্বাসন”। শক্তিশালী গদ্যের আশা ছেড়ে দিন, আবেগই আসল জিনিস।

বাবা-ছেলের আবেগ, বাবা-মেয়ের আবেগ, দাদা-নাতনীর আবেগ, প্রেমিক-প্রেমিকার আবেগ, মা-সন্তানের আবেগ, প্রিয়জনের কাছে থাকার আবেগ, প্রিয়জন থেকে দুরে থাকার আবেগ সবগুলোই পাবেন একটি বইয়ে। আর কী চাই?

এই সম্পর্কগুলো আবেগের সম্পর্ক, এটা অস্বীকার করতে পারবেন?

ছোটবেলায় যদি বিটিভিতে বাপ্পারাজের কান্নার দৃশ্য দেখে কোনো কিছু না বুঝেও আমার মতো আপনারও চোখ বেয়ে হুড়হুড় করে পানি নেমে আসে। আবেগে বুকটা ভারী হয়ে যায়। তাহলে বইটা আপনার জন্য। আবেগ কিন্তু খুব চলে, বুঝলেন!

কাহিনী সংক্ষেপ:
আশির দশকের শেষদিক। স্বৈরশাসক এরশাদ কাকা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য প্রচুর চেষ্টা করছেন। প্রশাসন ব্যস্ত আছে সরকারকে তুষ্ট করতে। আর এই সুযোগে সুযোগসন্ধানী অপরাধীরা পেয়ে যাচ্ছে নির্বিঘ্নে অপরাধ করার সুযোগ।

লোকালয় থেকে বহু দূরে দুর্গম জলরাশির ভেতরে লস্কর চর। সেখানে বংশানুক্রমে লস্কর ডাকাতরা বাস করে। তাদের বর্তমান সর্দার তোরাব আলী লস্কর। জোহরা নামের একটি কিশোরী তোরাব আলী লস্করের বাবা-মা হারা নাতনী।

লস্কর চরের ডাকাতরা ডাকাতি করে বেড়ায় আশেপাশের নদীগুলোতে চলাচল করা যানবাহনে এবং নদীতীরের গঞ্জে। বর্তমানে লস্কর চরে দেখা দিয়েছে কলেরার প্রাদুর্ভাব। সাথে আছে নগদ টাকা-পয়সারও অভাব।

তোরাব আলী লস্কর তাই তিন গঞ্জের তিনজন বড় ব্যবসায়ীর কাছে নগদ টাকার ব্যবস্থা করে রাখতে চিঠি দিলেন। টাকা তিনি কষ্ট করে ডাকাতির মাধ্যমেই বুধবার রাতে নিতে আসবেন। তবে সেই বুধবার রাতটা ইদের আগে নাকি ইদের পরে সেটা বলেননি।

চিঠি লিখে দিয়েছিল চরের একমাত্র লেখাপড়া জানা মানুষ জোহরা। সে নিজে নিজেই লেখাপড়া শিখেছে। ব্যাপারটাতে তোরাব আলী লস্কর বেশ বিস্মিত হয়েছেন, আমিও হয়েছি!

আচ্ছা, কারো সাহায্য ছাড়া নিজে নিজে কী করে লেখাপড়া শেখা যায়!? থাক, আমি এতো লজিক খুঁজি না।

তিন চিঠির একখানা পেলেন আজাহার খন্দকার। চিঠি পৌছানোর সময়টাতে তিনি অবশ্য ঢাকায় ছিলেন। তার বড় ছেলে মনসুর ঢাকা মেডিকেলের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। দেশজুড়ে চলা গন্ডগোল থেকে ছেলেকে বাঁচাতে তিনি তাকে গ্রামের বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন।

ফিরে এসেই তিনি চিঠিখানা পেলেন। চিঠিতে সুন্দর করে একটা সালাম এবং কুৎসিত করে একটা হুমকি থাকার পরও তিনি পুলিশকে খবর দিলেন। ডাকাতদের যেহেতু টাকাপয়সার টানাটানি চলছিলো তাই বেশিদিন অপেক্ষা করতে হলনা। দুইজন জীবিত ডাকাত ধরা পড়ল এবং একজন পুলিশের পুরোনো বন্দুকের গুলি খেয়ে মারা গেল।

বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে মনসুর পড়ে গেল কণার প্রেমে। কণা ইন্টারের ছাত্রী। মনসুরের কবিতার ছন্দে সে বিমোহিত। নানা ঘটনা-দুর্ঘটনা পেরিয়ে তাদের শুভ বিবাহও সম্পন্ন হয়ে গেল। এই অংশের প্রতিটা দৃশ্যে, প্রতিটা সংলাপে আপনি শিহরিত হবেন। আবেগে কেঁপে উঠবেন। নোনা পানিতে ভরে উঠবে আপনার চোখ।

ওদিকে লস্কর চরে জোহরা হয়ে উঠেছে দাদার চাইতেও শক্তিশালী। প্রথমবার সে পুলিশের কাছে ধরা পড়া ডাকাত দুজনকে কৌশল করে ছিনিয়ে নিল। পরেরবার এসে একজন পুলিশকে করল ক্ষতবিক্ষত। এরপরে আবার এসে পুলিশের ওসিকে নিজের থানাতেই বন্দী করল। পুলিশকে দিয়ে বিক্রি করালো নিজেদের মাছ। যাবার সময় পুড়িয়ে দিয়ে গেল আজাহার খন্দকারের পাটের আড়ত।

এই ঘটনার পর থেকে পুলিশও একটু নড়েচড়ে বসলো। জোহরা আর ডাকাতদলকে শায়েস্তা করার জন্য তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু গহীন লস্কর চরে যেতে তাদের সাহসে কুলালো না।

পাঠের আড়ত হারিয়ে খন্দকার পরিবারে নেমে এলো কঠিন দুর্ভোগ। আজাহার খন্দকার আর মনসুরের তখন দিশেহারা অবস্থা। এরই মাঝে কণার পেটে এল প্রথম সন্তান।

বিয়ের পরে কণা আর বাপের বাড়ি যায়নি। তাই বাবা-মাকে সন্তান আগমনের সুসংবাদ জানাতে সে মনসুরের স্কুলপড়ুয়া ছোটভাইকে সাথে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যায়। কথা হয় সপ্তাহখানেক পর মনসুর গিয়ে তাকে নিয়ে আসবে।

কিন্তু মনসুরের আর শ্বশুরবাড়ি যাওয়া হল না। নদীতে পাওয়া গেল তার ক্ষতবিক্ষত লাশ। অল্প বয়সে কণা হল বিধবা।

দূরের লস্কর চরে একটি মানুষ জীবিত থেকেও মৃত মানুষের জীবন কাটাচ্ছে। তার বুকভরা শুধু কষ্ট আর কষ্ট। ডাকাতদের এই চরে সে কাটাচ্ছে তার নির্বাসনের দিন।

আর বলব না। ৩৭৬ পৃষ্ঠার বইয়ের ২৬৫ পৃষ্ঠার কাহিনী ইতিমধ্যেই বলে ফেলেছি। বাকীটুকুও বলে ফেললে যারা বইটা পড়বে বলে ঠিক করেছে তারা গালিগালাজও করতে পারে।

বইটাতে কাহিনী এবং আবেগ ছাড়া আর কিছু খুঁজতে যাবেন না। শিক্ষনীয় কিছু খুঁজতে চাইলে এই বই বাদ দিন।

আরেকটা কথা, হুমায়ুন আহমেদ যখন বেঁচে ছিলেন তখন উনার লেখাকে কিছু লোক নিম্নমানের গদ্য বলত। এখন সম্ভব হলে আমি তাদেরকে এই বইটা পড়তে বলতাম। যাইহোক, আমি আবেগী মানুষ। শক্তিশালী গদ্য দিয়ে আমার কী কাজ!

আবেগের বশে রেটিংটা হয়তো বাড়াবাড়ি রকমের দিয়ে ফেলবো, তাই রেটিং দিলাম না। বই পড়ে যার যার ইচ্ছেমতো দিয়ে দিবেন।

ফটো ক্রেডিট: উপরের লেখাটা আমার হলেও নিচের ছবিটা আমার না। যিনি ছবিটা ফেসবুকে আপলোড করেছিলেন তিনি বলেছিলেন চাইলে যে কেউ ছবিটা ব্যবহার করতে পারে। আমি করলাম। ধন্যবাদ।

Nirbason by Sadat hossain Pdf free Download link: click here

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!