Currently set to Index
Currently set to Follow
Latest Bangla Pdf

মিথ্যা তুমি দশ পিপড়া pdf download by Nazim Ud Daula

বইঃ মিথ্যা তুমি দশ পিঁপড়া
লেখকঃ নাজিম উদ দৌলা
প্রকাশকঃ আদী প্রকাশন
প্রকাশকালঃ সেপ্টেম্বর, ২০২০
ঘরানাঃ অ্যাকশন/মিস্ট্রি/সাসপেন্স/থ্রিলার
প্রচ্ছদঃ জ্যোতিষ হালদার
মোট পৃষ্ঠাঃ ২৮৮ পেজ
মুদ্রিত মূল্যঃ ৩৮৫ টাকা
ফরম্যাটঃ Pdf (পিডিএফ)
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৩.৬৫/৫
গুডরিডস রেটিংঃ ৪.৩/৫

কাহিনি সংক্ষেপঃ ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে হানিমুন কাটাতে এসেছে বাঙালি দম্পতি আবরার ও লিজা৷ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার কার্ডিফের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও বিলাসবহুল হোটেল ভোকো সেইন্ট ডেভিড’স-এ উঠেছে তারা। সদ্যবিবাহিত দম্পতিদের হানিমুন যেভাবে কাটে, সেভাবেই কার্ডিফের দিনগুলো কাটছিলো আবরার ও লিজার। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন অস্বাভাবিক হতে শুরু করলো চারপাশের অনেক কিছুই। ওদের হানিমুন স্যুইটে পাওয়া গেলো লিসেনিং বাগ৷ কেউ যেন আড়ি পেতে শোনার চেষ্টা করছে ওদের কথোপকথন। এদিকে কালো পোষাক পরিহিত কিছু রহস্যময় লোক সারাক্ষণ অনুসরণ করে চলেছে আবরার ও লিজাকে, তারা যেখানে যাচ্ছে সেখানেই। হোটেলের ম্যানেজার জগজিৎ সিংয়ের আচরণও কেমন যেন ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। লোকটার ভাবগতিক দেখলেই মনে হবে বাঙালিদের সে একদমই পছন্দ করে না।

আবরার ও লিজাকে ঘিরে যখন এসব অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে চলেছে, তখন লিজা আরো একটা অদ্ভুত ব্যাপার খেয়াল করলো। আবরার কেন যেন কার্ডিফের অদূরে অবস্থিত ফ্ল্যাটহোম দ্বীপে যাওয়ার জন্য একরকম মরিয়া হয়ে উঠেছে। ফ্ল্যাটহোম দ্বীপের বহু পুরোনো লাইটহাউজ খুবই বিখ্যাত। কিন্তু ওয়েলস সরকার ইদানীং সেখানে ট্যুরিস্ট পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে। এতো কিছুর পরেও আবরারকে নিরস্ত করা যাচ্ছে না। সে চেষ্টা চালিয়েই যাচ্ছে ফ্ল্যাটহোম দ্বীপে যাওয়ার জন্য।

আবরারের মৃত বাবা আযহার আহমেদের ডায়েরিতে এমন কি আছে যা পড়ার পর মাথা খারাপ হওয়ার মতো অবস্থা হয়ে গিয়েছিলো লিজার? ফ্ল্যাটহোম দ্বীপে অবস্থিত লাইটহাউজের ইনচার্জ এডওয়ার্ড ফ্লেচার হঠাৎ চমকে উঠলেন কেন আবরারকে দেখে? হানিমুনে এসে প্রেমের বানে ভেসে যেতে যাওয়া লিজার কাছে হঠাৎ করেই আবরারকে সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষ বলে মনে হতে লাগলো৷ দ্বিধার জালে আটকা পড়ে গেলো মেয়েটা।

এদিকে আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে হিটলারের আদর্শ বুকে ধারণ করা নিও-নাৎসি এক সংগঠন। কার্ডিফের রাস্তায় হেঁটেচলে বেড়াচ্ছে তারা। কিসের আশায়? মৃত্যুর ঠিক কিছু সময় আগে ফুয়েরার অ্যাডলফ হিটলার একটা মিটিং ডেকেছিলেন। কি এজেন্ডা ছিলো সেই মিটিংয়ের? ১৯৭১ সালের ১৪-ই ডিসেম্বর, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ঠিক প্রাক্কালে ভয়ঙ্কর একটা ঘটনা ঘটে গিয়েছিলো কেরানীগঞ্জের ক্রুশনগর গ্রামের মাস্টারবাড়িতে। সেখানে আবিস্কৃত হয়েছিলো অজ্ঞাতনামা একজন শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তির লাশ। এসবের সাথে আজকের এই আধুনিক সময়ে আবরার ও লিজার সাথে ঘটে যাওয়া অস্বাভাবিক ঘটনাগুলোর সম্পর্কই বা কোথায়?

ত্রিশ বছর ধরে কার্ডিফ শহর নিজের ভেতরে লুকিয়ে রেখেছে এমন এক ভয়ঙ্কর সত্য, যা অযোগ্য কারো হাতে পড়লে হুমকির মুখে পড়ে যাবে কোটি কোটি মানুষের জীবন। নির্ভেজাল ও আনন্দময় এক হানিমুন কাটাতে কার্ডিফে এসে আবরার ও লিজাকে যে কতোকিছুর মুখোমুখি হতে হবে সেই ভয়ঙ্কর সত্যের জন্য, তা হয়তো তারা নিজেরাও জানতো না। গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো এদিকে আবার কার্ডিফ শহরের দিকে ধেয়ে আসছে ভয়াবহ এক ঘূর্ণিঝড়। হানিমুন কাটাতে এসে জীবন বাঁচানোই কঠিন হয়ে পড়লো আবরার ও লিজার জন্য।

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় থ্রিলার লেখক নাজিম উদ দৌলা তাঁর পাঠকদের কাছে পরিচিত ‘ইনকারনেশন’, ‘ব্লাডস্টোন’, ‘ব্রিজরক্ষক’ ও ‘মহাযাত্রা’-এর মতো বইগুলোর জন্য। ইদানীং তিনি মনোনিবেশ করেছেন মুভির স্ক্রিপ্ট লেখালেখির দিকেও। কাজী আনোয়ার হোসেনের বিখ্যাত এসপিওনাজ এজেন্ট মাসুদ রানা বিষয়ক মুভির স্ক্রিপ্টও লিখেছেন নাজিম উদ দৌলা। বেশ অনেকদিন পর তাঁর কাছ থেকে পাঠক পেলো আরো একটা থ্রিলার ‘মিথ্যা তুমি দশ পিঁপড়া’। যদিও বইটা আরো আগেই আদী প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু বছরের শেষদিকে এসে প্রকাশিত হলো।

‘মিথ্যা তুমি দশ পিঁপড়া’-এর কাহিনি আবর্তিত হয়েছে ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে হানিমুন কাটাতে আসা সদ্যবিবাহিত দম্পতি আবরার ও লিজার সাথে ঘটে যাওয়া একের পর এক উত্তেজনাকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে৷ নিখাদ থ্রিলার। কিন্তু এর সাথে আবার লেখক যুক্ত করেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সামান্য কিছু অংশকে। কাহিনি এগিয়ে গেছে নিজস্ব গতিতেই। কোন তাড়াহুড়ার ছাপ পাইনি নাজিম উদ দৌলার লেখায়। আস্তে আস্তে আবরার ও লিজাকে দিয়ে তিনি খুলিয়েছেন পুরোনো এক রহস্যের জট। দ্রুতগতির এই থ্রিলার উপন্যাসে যেমন ছিলো সাসপেন্স ও মিস্ট্রি, তেমনই দেখা পেয়েছি ধুন্ধুমার অ্যাকশনের। বেশ ভালো লেগেছে ব্যাপারটা। আরো একটা জিনিস ভালো লেগেছে, আর তা হলো কার্ডিফ শহর ও এর আশেপাশের এলাকার বর্ণনা। বেশ জীবন্ত লাগছিলো আমার কাছে বর্ণনাগুলো যখন বইটা পড়ছিলাম।

‘মিথ্যা তুমি দশ পিঁপড়া’ উপন্যাসটা আমার কাছে অনেকাংশেই সিনেম্যাটিক লেগেছে। মাঝেমাঝে কল্পনায় এর কাহিনি কোন অ্যাকশন মুভির সিনগুলোর মতো প্লে হচ্ছিলো৷ থ্রিলার উপন্যাস হিসেবে বইটা সার্থক বলে মনে করি আমি। এবার একটা খটকার ব্যাপারে বলি। লন্ডনে জীবনের অনেকটা সময় কাটানো লিজা যখন আবরারের কাছে লাইটহাউজ ও এর কাজ সম্পর্কে জানতে চেয়েছে, তখন আমি একটু অবাক হয়েছি। লজিক্যালি আমার কাছে মনে হয়, লিজার জানার কথা ছিলো লাইটহাউজ মূলত কি কাজ করে। ইভেন, লাইটহাউজ শব্দটা যারা জানে তাদের জানা থাকার কথা এটার এক্স্যাক্ট কাজ কি। খটকা বলতে এই একটাই ছিলো।

এবার আসি ভুল বানানের ব্যাপারে। বেশ কিছু ভুল বানানের দেখা পেয়েছি ‘মিথ্যা তুমি দশ পিঁপড়া’-তে। নিরস্ত (নিরুৎসাহিত করা) করা-কে নিরস্ত্র, প্রতিপত্তি-কে পতিপত্তি, পাহারা-কে পাহাড়া, পরবর্তী-কে পরবর্তি, পরা (পরিধান করা)-কে পড়া ও বেরিয়ে (বের হয়ে) আসা-কে বেড়িয়ে আসা লিখতে দেখেছি। কিছু টাইপিং মিসটেকও খেয়াল করেছি৷ আশা করবো বইটার পরবর্তী এডিশনে এই ভুলগুলো আর থাকবে না।

জ্যোতিষ হালদারের করা প্রচ্ছদটা চমৎকার লেগেছে আমার কাছে। বইটার বাঁধাই আর কাগজের মান নিয়েও আমি সন্তুষ্ট।

থ্রিলারপ্রেমীরা, যারা এখনো ‘মিথ্যা তুমি দশ পিঁপড়া’ পড়েননি চাইলে পড়ে ফেলতে পারেন।

mittha tumi 10 pipra Nazim Ud Daula pdf link: click here

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!