khelaram khele ja pdf

খেলারাম খেলে যা Pdf ebook

khelaram khele ja pdf free book – খেলারাম খেলে যা সৈয়দ শামসুল হক pdf ebook
  • বই – খেলারাম খেলে যা
  • লেখক-  সৈয়দ শামসুল হক
  • প্রকাশক- ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ
  • ফাইল ফরম্যাট: –  epub, MOBI, Pdf free ebook(পিডিএফ ডাউনলোড)

খেলারাম খেলে যা বই রিভিউ

খেলারাম খেলে যা উপন্যাসের প্রধান চরিত্র-

সুন্দর প্রচ্ছদ আঁকা, শক্ত মলাট করে বাধাই, সাদা পৃষ্ঠার মধ্যে কালো রঙের ঝকঝকে অক্ষর— বই বলতে যা বোঝায় ‘খেলারাম খেলে যা’ আমার মোটেই সেভাবে পড়া হয়নি।
তবে কিভাবে পড়লাম?
আমি সেই সময় নবম শ্রেণির ছাত্র। শরৎচন্দ্র গিলে শেষ পর্যায়ে। ব্যোমকেশ চলছে শরৎচন্দ্রের পাশাপাশি, একই সাথে চলছে সত্যজিতের ফেলু মিত্তির। সেই সময়টা আমার জন্য ছিল বিস্ময়ে বিমূঢ় আবিষ্কারের নেশায় মত্ত যাযাবরের মতো।
তারপর ঘটনাচক্রে হঠাৎ একদিন হুমায়ুন আহমেদ নামের কোনো একজন লেখকের লেখার সঙ্গে পরিচয়। সুতরাং, তাঁকে আর ছাড়া কেন? যাই পাচ্ছি গোগ্রাসে গিলে চলছি৷ তারও অনেক পর আসলেন সৈয়দ হক। ‘খেলারাম খেলে যা’ তাঁর পড়া প্রথম বই৷
আর এত্তসব বই আমি সুন্দর প্রচ্ছদ করা মলাটবদ্ধ সাদা পৃষ্ঠার মধ্যে পড়িনি, পড়েছি মুঠোফোনের পর্দায় এবং এর পেছনে রয়েছে ‘বাংলা লাইব্রেরি’ নামে একটা ওয়েবসাইট নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা ।
‘ধান ভানতে শিবের গীত’ হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং, বলার লাগাম টেনে ধরতে হচ্ছে।
‘খেলারাম খেলে যা’ বইটার কথা উঠলেই যে প্রশ্ন আসে তা হলো: ‘খেলারাম খেলে যা’ কেমন বই?
প্রশ্নের জবাবে এক কথাতেই বলা যায়, একই সাথে নন্দিত এবং নিন্দিত বই বলতে যা বোঝায় তাই হচ্ছে ‘খেলারাম খেলে যা’। এই বইয়ের উপর যেমন একদলের উজ্জ্বল দৃষ্টি রয়েছে তেমনি বিপরীত পক্ষের আরেক দলের শূলদৃষ্টির পাশাপাশি বন্ধুক হাতে নিয়ে বুলেট ছোড়া দৃষ্টিও প্রত্যক্ষ করা যায়। তর্ক–বিতর্ক চলে আসছে সেই কবে থেকেই। আর এত আলোচনা সমালোচনার পিছনে বোধহয় একটাই কারণ, তা হলো: “যৌন্যতা”। যৌন্যতা কথাটা উচ্চারিত হলেই ‘অশ্লীলতা’ শব্দটি যৌন্যতার মাসতুতো ভাই হিশেবে নির্বিবাদে চলে আসে।
সাহিত্যে যৌন্যতা নতুন কিছু না হলেও এখন অবধি এটি যে সবচেয়ে বিতর্কিত মামলা তা কারো অজ্ঞাত থাকার কথা নয় । একেক জর্জের (পাঠক বা লেখক) আদালতে ‘যৌন্যতা’ একেক রকম অপরাধী। তাই রায়েও দেখা যায় ভিন্নতা।
তবে এখন পর্যন্ত যৌন্যতা নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির সীমাবদ্ধতা, চিন্তাভাবনার সংকীর্ণতা এবং সহজ সত্যকে সহজে মেনে নেওয়ার মানসিকতা; তা যে আমরা আমাদের ভেতরে এখন অবধি পুরোপুরি গড়ে তোলতে পারিনি তা বলা বাহুল্য। তাই সাহিত্যে যৌন্যতা নিয়ে যখনই কথা উঠে তখন পিছন থেকে আমাদের সংস্কার আমাদেরকে টেনে ধরে। এর দরুন চোখের সামনে যে ঝাঁঝরওয়ালা ভারী পর্দা ঝুলে আছে তা কাটিয়ে সাহিত্যের মূল চেতনা ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না।
‘সাহিত্যে যৌন্যতা’ রবীন্দ্রনাথের সময় স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও কিছুক্ষেত্রে গ্রহন করতে পারেননি। বাংলা কথাসাহিত্যে জগদীশ গুপ্ত যখন মানুষের ভেতরে মানুষের আরেক সত্ত্বাকে ফুটিয়ে তোললেন তখন রবীন্দ্রনাথ একে বললেন ‘লালসার অসংযম’।
সুতরাং সাহিত্যে যৌন্যতা সম্পর্কে সুড়সুড়ি থাকাটা দোষের কিছু মনে না হলেও, সময়ের দিক থেকে বিবেচনা করলে আপনি আমি দৃষ্টিভঙ্গির বাইরের জগৎ নিয়ে চিন্তাভাবনার দিক থেকে এখনো কিছু কিছু ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ যুগের সাধারণ মানুষদের থেকেও পিছিয়ে আছি।
সাহিত্য যেমন বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি যৌনতাও তেমন বাস্তব জীবনের একটা বড় সত্য। এটা মেনে নিতে পারি না বলেই আমাদের (পাঠকের) নাক থেকে অশ্লীলতার গন্ধ ভুরভুর করে বের হয়।
‘সাহিত্যে যৌন্যতা’কে আমাদের সহজ সত্য হিশেবেই দেখা উচিত। আমরা অশ্লীলতার দায়ে কেউ অভিযুক্ত হলে চিৎকার করে পাড়া মাথায় তুলি, কিন্তু অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অশ্লীল গালিগালাজ করতে নিজের অশ্লীলতার খোঁজ রাখি না৷ তখন আমরা একে অশ্লীলতা বলি না, নব্য তরুণ সমাজের উদ্ধারকাজ বলি।
কিন্তু এখানে আরেকটা ব্যাপার বলা যেতে পারে, সাহিত্য যৌন্যতা তখনই সুন্দর যখন তা কোনো অস্তিত্বের সংকট বর্ণনা করে, কোনো পরিস্থিতির অসহায়ত্ব তুলে ধরে অথবা ব্যক্তি কিংবা চরিত্রের মানসপটে অন্যরকম জীবনের অনুসন্ধানের ছবি তুলে ধরতে বর্ণিত হয়।
সাহিত্যে যৌন্যতা বা নগ্নতা অশ্লীল না, নগ্নতা দিয়েও মানুষের অসহায়ত্ব ফুটিয়ে তোলা যায়। মোদ্দাকথা, সাহিত্য যৌন্যতা সুন্দর কিন্তু সেটা যেন কদর্য না হয়।
এটা কমবেশ সবাই জানেন ‘খেলারাম খেলে যা’ একটি যৌন্যতানির্ভর উপন্যাস। এটি যে বাংলা সাহিত্য যৌন্যতানির্ভর উপন্যাসের প্রথম দৃষ্টান্ত তা নয়। এর আগে বুদ্ধদেব বসুর ‘রাত ভরে বৃষ্টি’, সমরেশ বসুর ‘বিবর’ ও ‘প্রজাপতি’ লেখা হয়েছে। শুনেছি ‘প্রজাপতি’ উপন্যাসখানা নাকি যৌন্যতা ও অশ্লীলতার দায়ে আটারো বছর নিষিদ্ধ ছিল।
‘খেলারাম খেলে যা’ বইয়ের প্রধান চরিত্র বাবর আলী খান। বয়স ঊনচল্লিশ বা চল্লিশ। বাবর একজন কামুক, লম্পট, দুশ্চরিত্র হলেও দেখতে নিপাট ভদ্রলোক, গোছানো এবং সুন্দর মোহময় কথায় মানুষকে বশীভূত করার দক্ষতায় পটু। যার বিশেষ শিকার হয় অল্পবয়েসী তরুণী। উপন্যাসের শুরুতেই প্রথম দুই পরিচ্ছেদে পাওয়া যায় সতেরো বছরের তরুণী লতিফাকে। যার সাথে বাবরের শারীরিক সম্পর্ক ছিল। বলাবাহুল্য, বাবরের যে তরুণীদের অভিভূত করার যে বিশেষ ক্ষমতা আছে তা দিয়েই সে জালে শিকার আটকায়। তার জন্য বাবর আলী জোরজবরদস্তি করে না— বরং বুদ্ধি খাটায়, অর্থ ব্যয় করে আর সময় অপচয় করে।
লতিফার মুখ থেকেই শোনা যায়, বাবর ভণ্ড, প্রতারক, দেহলিপ্সু একজন অভিনেতা। যার কাছে ভালোবাসা নয়, শরীর এবং শরীরের সুখটাই মূখ্য।
একসময় জাহেদার কথা উপন্যাসে উঠে আসে। পরবর্তী সম্পূর্ণ উপন্যাসে বাবরকে দেখা যায় জাহেদার সঙ্গে উদ্দেশ্য সিদ্ধ করতে ঘুরে বেড়াতে। আর সেই সময় পাঠক বাবর আলী খানের লম্পট, দেহলিপ্সু, যৌনাকাঙ্খায় আসক্ত চেহারার আড়ালে এক অন্য বাবর আলীকে দেখতে পায়। পাঠক মাত্রই দ্বিধাদ্বন্দে জড়িয়ে যায়। বাবর আলী তখন হয়ে উঠে একজন চিরায়ত লম্পটের আড়ালে দার্শনিক।
বাবর আলী যখন বলে:
” প্ৰেম একটা অভিনয়। আসলে আমরা একজন আরেকজনের সঙ্গে শুতে চাই। বিশুদ্ধ এবং কেবলমাত্ৰ শয়ন; পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আনন্দ, সম্পূর্ণ তৃপ্তি, চূড়ান্ত উল্লাস এবং নিঃশেষে বিজয় প্রকৃতি একমাত্র সঙ্গমেই দিয়েছে। “
তখন বাবর আলীর ভেতরের বাবর আলীকে দেখতে পাওয়া যায়। এক পর্যায়ে বাবর আলীকে তার অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি হতে দেখা যায়।
বাবর আলীর মনে পড়ে, দেশভাগের সময় হাসনু নামের বোনের কথা। আবার সেই খণ্ড স্মৃতিচারণ তার সেই বর্তমান যৌন্যতার আড়ালে ঢাকা পড়ে। কখনো যৌন্যলিপ্সু বাবর আলী পাঠকের চোখে বড় হয়ে উঠে, কখনো অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি বাবর আলী পাঠকের সামনে সত্য হয়ে উঠে। আবার কখনো দার্শনিক বাবর আলী জীবন্ত হয়ে উঠে সত্যকথনের মধ্য দিয়ে।
“আদিম কালে, যখন আমরা উলংগ থাকতাম, পাথর ছুঁড়ে প্রাণী হত্যা করে তার মাংস ঝলসে খেতাম, যখন ইতিহাস ছিল না, ভাষা ছিল না, তখন আমরা ক্রুদ্ধ হলে হত্যা করতাম। তখন সেটা স্বাভাবিক ছিল। এখন যে করি না তার কারণ আমরা আইন করে নিয়েছি, কতকগুলো নিয়ম বানিয়েছি। আর মনে রাখবে, নিয়ম কানুন আইন এসব দুর্বল মানুষেব সৃষ্টি। আমরা এখন হত্যা করি না, দয়া করি, সহানুভূতি দেখাই। দয়া হচ্ছে অর্জিত আবেগ। মানুষের রক্তে তা নেই, সভ্যতা যার নাম তারই একটা অবদান ঐ দয়া। আমরা ক্রোধ দমনকে একটা মহৎ গুণ বলে সবাই স্বীকার করে নিয়েছি। যার ক্ৰোধ নেই তিনি মহাপুরুষ। কিন্তু এটা প্ৰকৃতির নিয়ম নয়।”
‘খেলারাম খেলে যা’ বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে আহমরি কোনো উপন্যাস না হলেও যেই সময়ে রচিত সেইসময়ে বাংলাদেশের সাহিত্যে এটি অভিনব, নতুন আঙ্গিকে লেখা একটি আধুনিক উপন্যাস। ৭৩ সালে দাঁড়িয়ে লেখাটা এখন ২০২১ সালে এসেও কতটা বাস্তব তা আমরা দেখতে পাচ্ছি সমাজে বাবরের মতো অসংখ্য বাবরের চরিত্রের মধ্যে। সুতরাং এর আবেদন ফুরিয়ে গেছে এমনটা বললে অন্যায় বলা হবে। এখন উপন্যাসের গল্পটা আমাদের নিকট এতটাই নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনার পরিণত হয়েছে যে হয়তো কালের দাবিতে ঘটনাগুলো এখন আমাদের সাদামাটাই মনে হয়ে থাকে। কিন্তু লেখক আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে এমন লেখা লিখেছেন তা ভুলে গেলে চলবে না। এখনও প্রেমের নামে ভালোবাসার নামে সমাজের অগনিত ‘বাবর’ নামের পিশাচদের খেলা চলে, তাদের মৃত্যু ঘটেনি বরং সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটছে চক্রবৃদ্ধি হারে। বিভিন্ন পার্কে, পর্যটন কেন্দ্রে, হোটলে দেখতে পাওয়া যায় ওদের।
তবে উপন্যাসের শেষ অংশে লেখক বাবরকে অস্তিত্ব-সংকটের মধ্যে উপস্থিত করে লম্পট, কামুক থেকে মানবিক একজন মানুষ হিশেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন। যেখানে মানবিকতা সারা বইয়ের যৌন্যতাকে ছাপিয়ে মূখ্য হয়ে উঠে৷
কিন্তু, আমি এই জায়গায় লেখককে ব্যর্থ মনে করি। কেননা ঘটনা প্রবাহের অতি নাটকীয়তা যা বাবর চরিত্রের প্রতি বিশ্বাস যোগায় না। বরং মনে হয় লেখক ডালপালা ছড়িয়ে সমাপ্তি টানার পথ খোঁজে না পেয়ে অসংলগ্ন সমাপ্তি টেনেছেন।
ইচ্ছে হলে পড়ে দেখতে পারেন, নাও দেখতে পারেন। কোনো ক্ষতি হবে এমনটা নয়।
এই বইটা আমার ভালোও লাগেনি, মন্দও লাগেনি। শুধু এটুকু বলা যায়, সময় কাটানোর জন্য এটা আমার নিকট উত্তম না হলেও অনেকের কাছে প্রশংসা কুড়াবে ।

খেলারাম খেলে যা Pdf ebook link-

ebook

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *