Currently set to Index
Currently set to Follow
Books

একটি আদর্শ হিন্দু হোটেল Pdf download ও রিভিউ

বন্ধুরা এই পোষ্টের মধ্যে তোমরা পাবে একটি নতুন বইয়ের রিভিউ বইটির নাম হচ্ছে আদর্শ হিন্দু হোটেল  পিডিএফ ডাউনলোড read online

 

আদর্শ হিন্দু হোটেল বই রিভিউ: 

প্রারম্ভিক: কিছু উপন্যাস থাকে যা মানুষকে নির্দ্বিধায় পড়তে বলা যায়। ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’ তেমনই একটি উপন্যাস।
কারণ এই উপন্যাস শুধু একটা গল্পই বলে যায় না সে সাথে অনুপ্রেরণা জাগায়, সততা আর শঠতার পরিণতি চোখের সামনেই তুলে ধরে। লেগে থাকা আর নিজের স্বপ্ন পূরণের গল্প ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপধ্যায় বাংলা সাহিত্যের একজন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। “পথের পাঁচালী” ও “অপরাজিতা” তাঁর দুইটি বিখ্যাত উপন্যাস। লেখক “আদর্শ হিন্দু হোটেল” উপন্যাসে গ্রামীণ চরিত্র অঙ্কনের মধ্য দিয়ে একজন উদ্যোক্তার গল্প ফুটিয়ে তুলেছেন। দৃঢ় মনোবল আর আকাঙ্ক্ষা থাকলে একটি উদ্যোগ সফল হতে বাধ্য। ধৈর্য, দক্ষতা ও কাজের প্রতি সততা মানুষকে চরম শিখরে নিয়ে যায়।
কাহিনী সংক্ষেপ: সবুজে ঘেরা এই সুন্দর প্রকৃতির বুকে রানাঘাটের রেলবাজারের পাশে ছোট্ট একটা হোটেল নাম ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’। এখানে রাধুনী হিসেবে কাজ করে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকা এক ব্রাহ্মণ – হাজারী ঠাকুর বয়স পঁয়তাল্লিশ কী ছেচল্লিশ, রঙ কালো, একাগ্র চেহারা রান্নাকে রীতিমত শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন তিনি। তার হাতের হোক মাংস কী ডাল চচ্চড়ি- যে ই তার রান্না খেয়েছে সে-ই পরেরবার এখানে আসতে বাধ্য হয়েছে। একরকম তার রান্নার দক্ষতার ওপরেই টিকে আছে হোটেলটা।
গত পাঁচ বছর ধরে এখানে কাজ করছে সে। কিন্তু নিজের প্রাপ্য সম্মানটুকু সে পায়নি কখনো। মাইনে বাড়েনি এক আনাও। বরং উঠতে বসতে মালিকের ভর্ৎসনা শুনতে হয় তাকে। তুচ্ছ ভুলে তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে এখানকার ঝি পদ্ম তবু সহজ সরল এই মানুষটা বছরের পর বছর এখানে নির্বিকার ভাবে রাঁধুনির কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু তারও একটা স্বপ্ন আছে। বুকে জমানো আছে ছোট্ট এক টুকরো ইচ্ছে। বহুদিন ধরে নিজের একটা হোটেল খুলবার সাঁধ তার। যেখানে মানুষ কমদামে ভালো খাবার খেতে পারবে নিজের হোটেলে স্বহস্তে মানুষকে রেঁধে খাওয়ানোর স্বপ্ন এই মানুষটার বহুকালের। কিন্তু হাতে তো অত টাকাপয়সা নেই। মাইনের টাকায় পরিবার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। তবু সে স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন দেখতে তো আর বালাই নেই।
হাজারী ঠাকুরের বুকের ভিতর জিইয়ে রাখা স্বপ্নটা কি আদৌ পরিণতি পাবে?
পর্যালোচনা: হাজারি ঠাকুরের জীবনের চড়াই-উতরাই এবং তার উপর আশেপাশের অন্যান্য চরিত্রের প্রভাবকে লেখক আকর্ষণীয় বেশ কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রকাশ করেছেন। মনস্তত্ত্বের ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার ব্যাখ্যাও পাওয়া যায় এই উপন্যাসে। কাহিনীর গতিময়তার কারণে কখনো একঘেয়ে লাগবে না, বরং টানটান এক গল্পময় গাঁথুনির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া যাবে সমাপ্তির দিকে। এর সবচেয়ে বড় ধাক্কা সমাপ্তিতেই। শেষটায় এসে যেন একধরনের অতৃপ্তির স্বাদ থেকে যায়, যা একে ছোটগল্পের বৈশিষ্ট্যের ছোঁয়া দেয়। শেষটায় এসে থমকে যেতে হয়, তখন ভাববার আরো অনেক কিছুই থেকে যায়। লেখক এখানে যবনিকা শুধু টেনে দিয়েই থেমে থাকেননি, বরং শেষটা এমন করেছেন, যাতে করে পাঠক বইটি শেষ করবার পর কিছুক্ষণ নিজের মধ্যেই থমকে যেতে পারে। একটি ভালো বইয়ের অন্যতম গুণ বোধকরি এটাই যে তা শেষ হবার পরও অনেকটা সময় ধরে পাঠকমনে তার রেশ ধরে রাখে। ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’ নিঃসন্দেহে তা করবে এবং হাজারি ঠাকুরের জীবনের উত্থান-পতন এবং মনস্তত্ত্বের বহুমাত্রিকতা উপন্যাসটিকে একটি ভিন্ন ধাঁচ দিতে সমর্থ হয়েছে।
অনুপ্রেরণার দিক দিয়ে এই উপন্যাস অত্যন্ত ভালো একটি উদাহরণ। সব গণনাই শূন্য থেকে শুরু হয় এবং হাজারি ঠাকুর এই কথাটিকে কড়ায়-গণ্ডায় সত্যি প্রমাণ করে। নিজের লক্ষ্যে অটল থাকলে বহু বাধাবিপত্তির পরও সফল হওয়া যায়। নিজের উপর বিশ্বাস থাকলে আর স্বপ্নপূরণের জন্য অদম্য বাসনা থাকলে কিছুই আটকাতে পারে না সে স্বপ্নের কাছে যাওয়া থেকে। শূন্য থেকে শুরু করা হাজারি ঠাকুরের সফলতা পাঠককে অনেক অনুপ্রেরণা দেবে এবং কিছুটা সময়ের জন্য হলেও ব্যর্থতার গ্লানি থেকে দূরে রাখতে পারবে। আঁধারের মাঝে কিছুটা আলোর রেখা দেবার মতোই একটি চরিত্র হাজারি ঠাকুর।
কিন্তু এই উপন্যাসের মধ্য দিয়ে লেখক এ সমাজের সবচেয়ে কুৎসিত সত্যটিও উপস্থাপন করেছেন। অর্থই সকল অনর্থের মূল- এই উক্তিটি বহুল পরিচিত হলেও সকলেই জানি যে অর্থ ছাড়া এক তিলও চলা যায় না। আর ভোগবাদী সমাজে তো সকল মান-সম্মান-অবস্থানের নির্ধারক হচ্ছে অর্থ। ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’ও বাস্তব এই সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখেনি, বরং পাঠকদেরকে এর মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। পদ্মঝি ও হাজারি ঠাকুরের মধ্যকার সম্পর্কও এই গূঢ় অথচ সাধারণ সত্যের একটি বড় উদাহরণ।
সামগ্রিক প্রতিক্রিয়া: “আদর্শ হিন্দু হোটেল” বইটিকে অবশ্যপাঠ্য বললেও কম বলা হয়। বিভূতিভূষণের লেখা নিয়ে কী বলব, তাঁর লেখা বারবার পড়লেও কখনো একঘেয়ে লাগেনা। বৈচিত্র্যময় বর্ণনা, ভাষার কারুকাজ, অক্ষরগুলোকে নৈপুণ্যের সাথে বিন্যস্তকরণ… “আদর্শ হিন্দু হোটেল” এর পুরোটাতেই এই বিষয়গুলো ছিলো যথাযথ পরিমাণে। তাছাড়া, তাঁর প্রায় প্রতিটি লেখাতেই তিনি মানব জীবনের সাথে প্রকৃতির একটা অদ্ভুত মেলবন্ধন ঘটিয়ে দেন, কোথায় যেন অদৃশ্য হয়ে যায় মানুষ আর প্রকৃতির মধ্যবর্তী সূক্ষ্ম প্রাচীরখানি। এ সেতুবন্ধন বা সংযোগের বিষয়টা লেখকের এ বইয়েও স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত। “আদর্শ হিন্দু হোটেল” শুধু বিষয়গত দিক থেকেই নয়, ভাষাগত, গঠনগত দিক দিয়েও স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের, স্বকীয় ধারার। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের “আদর্শ হিন্দু হোটেল।
প্রকৃতিটা কার লেখায় সবচেয়ে ভালো ফুটে ওঠে এই প্রশ্নের উত্তরে বাঙালি অবশ্যই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর নাম নেবে। ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’ বইটিও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে এই গল্প টা শুধু প্রকৃতির নয়, গল্পটা একজন সাধাসিধে নির্বিকার মানুষের দীর্ঘকাল যাবত মনের ভেতর বয়ে বেড়ানো বাসনার। লেখক তার লেখনশৈলীর মাধ্যমে গল্পটা এত সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়েছেন যে পাঠক একবার পড়া শুরু করলে এই বইয়ের সাথে একাত্ম্য হতে বাধ্য। গল্প খুব সাবলীল ভঙ্গিতে এগিয়েছে বলতেই হয়। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বরাবরই প্রকৃতি আর মানুষের মাঝের অদৃশ্য দেয়াল ভেঙে তাদের সমান্তরাল করে দেয়। এই বইটিও তার ব্যতিক্রম নয়। এই বইতে তিনি একটা জীবনের গল্প বলেছেন, ছোট্ট ছোট্ট স্বপ্নগুলো মানুষের কাছে কতটা বড় হয়ে উঠতে পারে সেটা তুলে ধরেছেন। সব মিলিয়ে ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’ নিঃসন্দেহে একটি অবশ্যপাঠ্য বই।
Adarsha Hindu Hotel Pdf Download :

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!