Marketing Bangla Book Pdf

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশ – ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব pdf Download

বইয়ের নাম: চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশ
লেখকের নাম: ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব
মোট পৃষ্ঠা: ৩৩৪ পেজ
প্রকাশকাল: ২১ ফেব্রুয়ারি বইমেলা, ২০২০ সাল
ওভারঅল রেটিং: ৮.৪/১০

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশ বই রিভিউ:

বিগত ১বছর university এর বিভিন্ন program এ সবচেয়ে বেশি যে কথাটা শুনেছি, সেটা হলো ৪র্থ শিল্প বিপ্লব বা industry ফোর।

আমি আসলে ১জন অর্থনীতির ছাত্র না, Biology এর ছাত্র। তবুও, economic আমার কাছে সবচেয়ে ফেভারিট বিষয়গুলোর ১টা।

৪র্থ শিল্প বিপ্লব নিয়ে একটা ভাসা ভাসা আইডিয়া ছিলো। যেহেতু শব্দের সাথে বিপ্লব যুক্ত আছে, সেহেতু এটা যে একটা বিশাল ব্যাপার, সেই ব্যাপারে ধারণা ছিলো।

কিন্তু কতটা বিশাল, কতটা ব্যাপক, সে ব্যাপারে নতুন করে চিন্তা করতে বাধ্য করলো ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এর চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশ বইটি।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশ – কী নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে বইটিতে?

তারচেয়ে বড় প্রশ্ন, কী নিয়ে আলোচনা করেননি লেখক? চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সাথে পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পর লেখক প্রথম বিস্তারিত আলোচনা তুলেছেন বাংলাদেশের Banking সেক্টর এবং economy নিয়ে।

কেন বাংলাদেশের মূলধারার ব্যাংকগুলো এখনও কৃষক কিংবা নিম্নবিত্তের আস্থার জায়গা হয়ে উঠতে পারেনি বরং আস্থার সংকট তৈরি করেছে এবং মোবাইল ব্যাংকিং কীভাবে সেই সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করেছে, সেই আলোচনা আছে।

অধ্যায়ের বড় একটা অংশ জুড়েই আছে ব্যাংকগুলোর নিরাপত্তা সংকট, অবধারিতভাবে উদাহরণ হিসেবে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা। এগুলো অতিক্রম করে কীভাবে বাংলাদেশ পরবর্তী শিল্প বিপ্লবের প্রস্তুতি নেবে, সেই বিষয়টিতে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যত্ অর্থনীতিতে ফিনটেক, Bitcoin, payment getaway, ক্রিপ্টোকারেন্সি maintain এ কী কী প্রস্তুতি নেওয়া দরকার, এই অধ্যায় আপনাকে তা জানিয়ে দেবে।

গত কয়েক বছর ধরেই দেশের সকল outsourcing কর্মীদের প্রাণের দাবি ছিলো paypal কে দেশে নিয়ে আসা। কিন্তু পেপ্যাল এর বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশে মূল বাধাটা আসলে কোথায়? এতদিন এই বিষয়ে সংশয় ছিলো, এখন পুরোপুরি ক্লিয়ার হয়েছি।

পরের আলোচনা প্রবেশ করেছে দেশের কর্মসংস্থানের বর্তমান এবং ভবিষ্যতে ।

প্রতি বছর দেশে লাখ লাখ graduate যখন কর্মবাজারে প্রবেশ করছে, তখন উপযুক্ত কর্মক্ষেত্র কোথায়? পুঁজি কীভাবে যুগে যুগে মেধাকে বায়াসড করেছে, কীভাবে নিজের কাজে লাগিয়েছে সেটা যেমন মনে একটা চাপ তৈরি করে, তেমনি দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড পর্যায়েও দেশে বিদেশে অদক্ষ শ্রমবাজার আমাদের মনে শঙ্কা জাগিয়ে যায়। কারণ, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে একটা জিনিস পরিষ্কার, সেখানে অদক্ষ কর্মীর কোনো জায়গা থাকবে না, যেহেতু হাজার হাজার মানুষের জায়গা নেবে অটোমেটিক রোবট, সেহেতু তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকতে হলে স্কিলড কর্মীর কোন বিকল্প নাই।

সবশেষে লেখক দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন।
কারিগরি, অ্যাপ্লাইড এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মধ্যে সমতা বা চেইন সিস্টেম তৈরির চিন্তাটা আমার কাছে বেশ চমকপ্রদ মনে হয়েছে।
একই সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রি এবং ইউনিভার্সিটির যৌথ প্রয়াসে আপডেটেড কারিকুলামের সাথে পরিচিত না হলে, শুধুমাত্র মুখস্থ এবং পূথিগত বিদ্যা দিয়ে আমাদের তরুণ সমাজ যে কর্মক্ষেত্রে টিকতে পারবেন না, এটা লেখক চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন।

তবে এখানে প্রাথমিক শিক্ষা এবং একমুখী শিক্ষা নিয়ে লেখক যে প্ল্যান শেয়ার করেছেন, সেটা আমার কাছে একান্তই অবাস্তব মনে হয়েছে। এটা নিয়ে মোটা দাগে বিতর্কের অবকাশ আছে।

একই সাথে শিল্প বিপ্লবের সাথে সাথে নীতি নৈতিকতা এবং পাপবোধ সমাজ থেকে বিদায় নেবে,পারিবারিক সম্পর্কের মূল নিয়ামক হবে ব্যবসা, লেখকের এই ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে আমি পুরোপুরি একমত না। কারণ ইতিহাস থেকে জানা যায়, সভ্যতার চরম অবক্ষয়ের মুহূর্তেও সমাজের একটি অংশ নীতি নৈতিকতার ধারাটুকু বজায় রেখে চলেছে।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশ এই বই থেকে আমার প্রাপ্তি গুলো কী কী?

অর্থনীতির বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় সমন্ধে মোটামুটি বেসিক ধারণা পেয়েছি। বিগ ডেটা, ব্লক চেইন ডেটা, অ্যাজাইল মেথড, পেমেন্ট গেটওয়ে, মোবাইল ব্যাংকিং, ব্যাংক সিকিউরিটি, লোকাল গেটওয়ে, রেমিটেনস, ভ্যাট বিভিন্ন টার্ম সমন্ধে জেনেছি, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের গুরুত্ব, সম্ভাবনা এবং সঙ্কট নিয়ে এমনকী আমি একঘন্টা বিরতিহীনভাবে কথাও বলতে পারবো।জেনেছি ইন্ডাস্ট্রি 4 এর চ্যালেঞ্জ এবং স্কিল নিয়েও।

বায়োলজিক্যাল সায়েন্স এর ছাত্র হিসেবে বায়োটেকনোলজি নিয়ে আরো একটু বিস্তারিত আলোচনা আশা করেছিলাম।

(বইয়ের প্রচ্ছদটা আরেকটু ভালো হতে পারতো বলে মনে হয়েছে, এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত।)

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশ বই থেকে আমার অপ্রাপ্তি কী?

বইটি ব্যাপকভাবে authority কে উদ্দেশ্য করে লেখা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যমান বাঁধাএবং সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখে, বাস্তবতার নিরিখে বাংলাদেশের ১জন ইউনিভার্সির তরুণ স্টুডেন্টস এর করণীয় কী এবং কীভাবে সে নিজেকে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত করবে, সেই গাইডলাইনও প্রয়োজন। যাই হোক, লেখক ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এটা নিয়ে আলাদা ১টা বই লিখে ফেলতে পারেন, তাহলে আমাদের বাংলাদেশিদের জন্য সুবিধা হয়।

বর্তমান সময়ে আমাদের বাংলাদেশের ১জন তরুণ স্টুডেন্ট হিসেবে আসন্ন ৪র্থ শিল্প বিপ্লব নিয়ে আমার মত বাংলাদেশিদের আশাবাদী হওয়া উচিত নাকি আতঙ্কিত হওয়া উচিত, সেই প্রশ্নের answer আমি এখনও খুঁজছি এ বইটি পড়ার কল্যাণে ।


চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশ pdf Download link: কপিরাইট,fb পেজে মেসেজ করুন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!