Bangla islamic book pdf free download

ফজর আর করব না কাযা ড. রাগিব সারজানি Pdf Download

বই: ফজর আর করব না কাযা
লেখক: ড. রাগিব সারজানি
অনুবাদ: আবু মুসআব ওসমান

ফজর আর করব না কাযা ড. রাগিব সারজানি বই রিভিউ:

ফজরের সালাত মুমিনের এক ঈমানী পরীক্ষা। রবের সাথে সাক্ষাতের সুবর্ণ সুযোগ। ফজরের তেলাওয়াতে ঘটে থাকে সমাবেশ। ফজরের সময়ে ঘটেছে ইসলামের যত বিস্ময়কর বিজয়! ফজরকালেই ঘটেছে আসমানি পরিবর্তন। ঘটবে দাজ্জাল ও দাজ্জালী শক্তির পতনে ঈসা মাসীহের আগমন…. চমৎকার যুক্তিতে ‘ফজর ওয়াক্তে ঘুম ভাঙ্গেনা’ কথাগুলো অযৌক্তিত প্রমাণিত করা হয়েছে।

বইটি হাতে নিয়ে ধারণা করেছি, বেশ কয়েকটি ট্রিক আর টিপস্ থাকবে সূর্যোদয়ের আগে বিছানা  ছাড়তে। আমাকে হতবাক করে দিয়ে এরকম কিছুই চোখে পড়লোনা। অবাক বিম্ময়ে পড়তে লাগলাম ‘ফজর আর করব না কাযা’।  মোটিভেশনাল বই। এবার মনে হলো, আমিই পারবো! ইচ্ছা থাকলে যে কেউই সমাধান খুঁজতে(ফজর আদায় করতে) অপেক্ষা করবেনা 😍

সংকল্প করেছিলাম, ফজরের সালাত আদায় করেই বইটি হাতে নিবো। আল্লাহ আমার চাওয়া পূরণ করেছেন।  ‘জন্মকথা’ হেডলাইনে লেখকের খুব আশ্চর্য অথচ দু:খজনক অনুভূতির কথাগুলো দিয়েই শুরু করেছেন।  একেএকে ফজরের সালাত কাদের জন্য, কেন গুরুত্বপূর্ণ, রব কি আমাদের উপর সাধ্যের বেশি দায়িত্ব আরোপ করেছেন এরূপ কথাগুলোর উত্তর দিয়ে গেছেন। বেশ সাববীল ভাষায়। অনুবাদকের জন্যেও দো’য়া। বানানে যথেষ্ট নজর দেয়া হয়েছে।

ফজরের সালাত হলো মুখলিস ও মুনাফিক তথা নিষ্ঠাবান বান্দা ও কপট বান্দার মাঝে পার্থক্যকরণের মানদণ্ড!! নবি স. বলেন,  ” এই দু’টি সালাত হলো (ফজর ও এশা) মুনাফিকদের জন্য সবচেয়ে বেশি কঠিন সালাত। তারা যদি এই দু’সালাতের ফজিলত জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও উপস্থিত হতো। ” [ইমাম আহমাদ, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৩৮১৮ ও সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ৮৪৩২]

আল্লাহু আকবার!  কি করছি আমি? আমার কি করা উচিত? আমিতো থাকতে চাই বিশ্বাসীদের দলে! আলিঙ্গন করতে চাই রহমতের বারিধারা! ইবাদতের বেলায় আলসেমি করা আমি কিভাবে রবের নিকটবর্তী হতে পারি?

আমাদের কর্মসূচনা  হওয়ার কথা ছিলো ফজরের নামাজের সঙ্গে! সমগ্র মুসলিম বিশ্ব জেগে উঠত ফজরের নির্ধারিত সময়ে। পুরো পৃথিবীর কর্মধারা আবর্তিত হতো ফজরের নামাজকে কেন্দ্র করে; ফজরের নামায কোন কিছু দ্বারা প্রভাবিত হতো না।

বইয়ের কয়েকটি বাক্য শেয়ার করার লোভ হচ্ছে…

‘যে বা যারা অমান্য করে অভ্যস্ত, শীঘ্রই তারা ফিতনায় পতিত হবে। আর যারা ফিতনায় পতিত হবে, তারা শিকার হবে মর্মন্তুদ শাস্তির।’

‘ আল্লাহ তায়া’লা যদি সৎ-অসৎ, সত্যবাদী-মিথ্যাবাদী,  অনুগত-অবাধ্য, শরীয়ত-অনুরাগী ও শরীয়ত-বিরাগী সকলকেই নির্বিচারে ক্ষমা করে দেন, তাহলে কি প্রয়োজন নেক আমলের?  কী উদ্দেশ্যে এত কর্মপ্রচেষ্টা? কেন আল্লাহর অনুগত বান্দারা কঠোর ও সুকঠিন মোজাহাদা করে? কেন তারা কনকনে শীতের রাতেও বিছানা ছেড়ে শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে মসজিদ-পানে ছোটে? ‘

টনক নাড়িয়ে দিয়েছে অ্যাক্টিভিটিতে! বন্ধু নির্বাচনেও আমাকে ভাবতে শিখিয়েছে। আমি যে বন্ধুদের পার্থিব কারণে ভালোবাসি ওদের আল্লাহর জন্যে ভালোবাসা উচিত| তারা আল্লাহর ইবাদত বিমুখ হলে তাদের ছেড়ে নতুন বন্ধু খোঁজা শুরু করবো। পরের অর্ধেক আলোচনা হয়েছে ‘ফজরের সালাত সহজে জামাতে আদায়ের জন্য সুনির্ধারিত কিছু উপায় ও মাধ্যম’।  শেষের পৃষ্ঠাগুলো প্রত্যেক সালাতের শেষের(বিশেষ করে ফজরের) দোয়াগুলো দিয়ে বিন্যস্ত।

পরিবর্তন আসুক..! টনক নড়ুক…! তারুণ্য জেগে উঠুক…!

আমরা তো কোনো ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব কিংবা সেলিব্রিটি হতে চাই না। আমরা চাই এক ফজর প্রজন্ম। ঘুনে ধরা সমাজে ছড়িয়ে দিবো ফজরের ডাক,  ‘ফরজ’ সালাতের জন্যে আলসেমি নয় আর। জামায়াতে যোগ দেবার তীব্র আকাঙ্খা চাই প্রতিটি পরিবারে!! সাহাবীদের মতন জী ব ন গড়তে চাই। যাদের কাছে ফজর ক্বাযা করাটা অসম্ভবের মতোন ঠেকায়। এক ওয়াক্ত ফজরের নামাজ কাযা হওয়ায় সাহাবী কেঁদে কেঁদে হয়রান। তাদের মতোন হতে হলে,  আমাদেরও ফজর নামাজের গুরুত্ব উপলব্ধি করা আবশ্যক। তবেই ফরজ ক্বাযা করার অনর্থক চিন্তা মাথা থেকে দূর হবে।

সুন্দর পৃথিবীর জন্যে প্রয়োজন পরিবর্তনের।
পরিবর্তন কর্ম ও বিশ্বাসের,  চিন্তা ও চিন্তাধারার।
ইসলামী সমাজ ও মুসলিম উম্মাহর জীবন ও জীবনধারার।
প্রত্যাশিত পরিবর্তনে প্রয়োজন একটি ‘ফজর-প্রজন্ম’ ও ‘প্রভাতী কাফেলা’র।
আসুন,  সুন্দর পৃথিবীর জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই-
আগামীর জীবনে আর কোনোদিন ফজর নামায করব না কাযা।

ফজর আর করব না কাযা ড. রাগিব সারজানি Pdf file Download: click here

Related Articles

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!